পাকিস্তানের করাচির এমএ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত অন্যতম ব্যস্ত শপিং মল ‘গুল প্লাজা’-য় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ রবিবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ২০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো অন্তত ৬০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টা নাগাদ শপিং মলের নিচতলায় একটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভবনের তিন তলা এবং বেসমেন্টে ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত আগুনের প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ভবনের ভেতরে থাকা দাহ্য পদার্থ— যেমন প্রসাধনী, পোশাক, প্লাস্টিক পণ্য এবং কার্পেটের কারণে আগুন পুরোপুরি নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
নিহত ৬ জনের মধ্যে ফুরকান নামে করাচি মেট্রোপলিটন কর্পোরেশনের (কেএমসি) একজন অভিজ্ঞ ফায়ারফাইটার রয়েছেন, যিনি উদ্ধারকাজ চলাকালীন প্রাণ হারান। এছাড়া আরও অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত করাচি সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিখোঁজদের নিয়ে উদ্বেগ
মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ জানান, নিখোঁজদের সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারি হিসাবে ৫৩ জনের নিখোঁজের রিপোর্ট জমা পড়লেও বেসরকারি তথ্যমতে এই সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন। উদ্ধারকারী সংস্থা ১১২২-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনের পেছনের অংশ ধসে পড়ায় এবং কাঠামোগত ঝুঁকির কারণে ভেতরে প্রবেশ করা বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
গুল প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির মতে, মলের ভেতর প্রায় ১,২০০টি দোকান রয়েছে। ভয়াবহ এই আগুনে কয়েকশ দোকান পুরোপুরি ছাই হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২.৫ বিলিয়ন (২৫০ কোটি) রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের সারাজীবনের পুঁজি হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ করাচির সমস্ত বাণিজ্যিক ভবনে জরুরি ভিত্তিতে ‘ফায়ার সেফটি অডিট’ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন।