Home Third Lead চট্টগ্রাম-৮ আসন: জামায়াত-এনসিপি দ্বন্দ্বে ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দেওয়ার পথে বিএনপি

চট্টগ্রাম-৮ আসন: জামায়াত-এনসিপি দ্বন্দ্বে ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দেওয়ার পথে বিএনপি

ছবি সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আংশিক) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের দুই শরিক দল—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যকার চরম দ্বন্দ্ব ও প্রার্থিতা নিয়ে টানাপোড়েন এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর জন্য জয়ের পথকে অনেক বেশি মসৃণ করে দিয়েছে।
ছবি: এ আই
জামায়াত-এনসিপি কোন্দল: জোটের গলার কাঁটা
জোটগত সিদ্ধান্তে এ আসনটি এনসিপি-কে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে  ৮ দিন প্রচারণায় না থাকলেও, তার বিশাল অনুসারী বাহিনী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, জোটের প্রার্থী এনসিপির জোবাইরুল হাসান আরিফ এলাকায় ‘নতুন মুখ’ হওয়ায় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন না পাওয়ায় বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
এমনকি এই আসনের প্রভাব হিসেবে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা স্থগিত করেছে এনসিপি। শরিকদের এই মুখ দেখাদেখি বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ ভোটারদের ওপর।
সুবিধাজনক অবস্থানে এরশাদ উল্লাহ: কেন তিনি এগিয়ে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত ও এনসিপির ভোট ভাগাভাগি এবং অভ্যন্তরীণ কাদা ছোড়াছুড়ি সরাসরি বিএনপির অনুকূলে কাজ করছে। তবে এর বাইরেও এরশাদ উল্লাহর কিছু নিজস্ব শক্ত অবস্থান তাকে এগিয়ে রেখেছে:
পারিবারিক ও রাজনৈতিক ইমেজ: সাবেক এমপিএ শরাফত উল্লাহর সন্তান হিসেবে এলাকায় তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক পরিচিতি রয়েছে। ১/১১-এর কঠিন সময়ে দলের পাশে থাকার কারণে সাধারণ কর্মীদের মাঝেও তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা।
স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক কর্মকাণ্ড: এলাকায় তিনি কেবল রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে শিক্ষা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে তার অবদান তাকে দল-মতের ঊর্ধ্বে ‘ঘরের মানুষ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তৃণমূলের আস্থা: জামায়াত-এনসিপি যখন নিজেদের মধ্যে প্রতীক ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত, এরশাদ উল্লাহ তখন নীরবে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিপুল সমর্থন আদায় করে নিচ্ছেন।
জনমতের প্রতিফলন: সরেজমিনে চান্দগাঁও-বোয়ালখালীর রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিদের কয়েকজনের  সাথে কথা বললে তারা অভিমত দেন যে এনসিপি প্রার্থীকে চিনতে এবং তার প্রতীক ‘শাপলা কলি’র সঙ্গে পরিচিত হতেই সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী দোটানায় থাকায় ভোটাররা একটি স্থিতিশীল বিকল্প খুঁজছেন। এই পরিস্থিতিতে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে এরশাদ উল্লাহর দিকেই ঝুঁকছেন সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ।
 চট্টগ্রাম-৮ আসনের নির্বাচনী নাটকীয়তা যে দিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে জোটের দুই প্রার্থীর দ্বন্দ্ব যদি শেষ পর্যন্ত নিরসন না হয়, তবে এই আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর বিজয় কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।