Home সারাদেশ রোগ সারাতে এসে রোগ নিয়ে ফেরা: বিশেষজ্ঞের চেম্বারেই সংক্রমণের ঝুঁকি!

রোগ সারাতে এসে রোগ নিয়ে ফেরা: বিশেষজ্ঞের চেম্বারেই সংক্রমণের ঝুঁকি!

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: চর্ম ও যৌন রোগের চিকিৎসা নিতে এসে উল্টো নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন রোগীরা। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধির চরম অবহেলা। বিশেষ করে অপেক্ষমাণ কক্ষে গাদাগাদি করে বসা এবং ছোঁয়াচে রোগ নিয়ে সাধারণ রোগীদের সাথে একই আসনে বসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। রাজধানীর বাইরে  এমন অবস্থা আরও ভয়াবহ।
সরেজমিন চিত্র: চেম্বারের ভেতরেই বিপত্তি
সরেজমিনে রাজধানীর কয়েকটি ব্যস্ততম চেম্বার ঘুরে দেখা যায়, ছোট একটি অপেক্ষমাণ কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ রোগী বসে আছেন। চর্ম রোগের অনেক ধরন—যেমন স্ক্যাবিস (খোসপাচড়া), ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা দাউদ অত্যন্ত ছোঁয়াচে।
অথচ সেখানে রোগীদের বসার জন্য নেই কোনো নির্দিষ্ট দূরত্ব। এমনকি চেয়ারগুলোও প্লাস্টিক বা রেক্সিনের, যা নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার কোনো বালাই নেই।
যৌন ব্যাধির ক্ষেত্রেও সামাজিক সংকোচের কারণে রোগীরা চুপ থাকলেও, একই শৌচাগার ব্যবহার বা কাছাকাছি বসার ফলে অনেক সময় অজান্তেই ছড়াচ্ছে জীবাণু। চিকিৎসকের চেম্বারে যেখানে সতর্কতামূলক দিকনির্দেশনা থাকার কথা, সেখানে অধিকাংশ জায়গায় কোনো সতর্কবার্তা বা স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা
চেম্বারে এসে নতুন বিড়ম্বনায় পড়েছেন এমন কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের অসহায়ত্বের কথা।
মোহাম্মদ রাজিব (ছদ্মনাম): “আমি এসেছিলাম সামান্য অ্যালার্জির সমস্যা নিয়ে। আড়াই ঘণ্টা গাদাগাদি করে বসেছিলাম। আমার পাশে একজনের সারা শরীরে চুলকানি ছিল। ডাক্তার দেখানোর তিন দিন পর থেকে আমার সারা শরীরেও একই রকম গুটি দেখা দেয়। এখন বুঝছি, সেই দিন চেম্বারে বসেই আমি এটা বাঁধিয়েছি।”
আফসানা বানু (ছদ্মনাম): “ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। কিন্তু বসার জায়গাটা এতই ঘিঞ্জি যে অন্য রোগীর শরীরের সাথে ঘষা লাগে। চর্ম রোগের ডাক্তাররা যেখানে পরিচ্ছন্নতার কথা বলেন, তাদের চেম্বারই কেন এত অপরিষ্কার থাকবে?”
করিম উদ্দিন: “অনেকেই গোপন রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন। আমরা কেউ জানি না কার কী রোগ। কিন্তু গাদাগাদি করে বসে থাকার কারণে ভয় লাগে। অন্তত একটা সিট পরপর বসার ব্যবস্থা থাকা উচিত ছিল।”
বিশেষজ্ঞের মতামত:
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চর্ম রোগ মূলত স্পর্শ এবং ব্যবহৃত কাপড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। চিকিৎসকের চেম্বারে যদি নিয়মিত চেয়ারগুলো জীবাণুমুক্ত না করা হয় এবং রোগীদের মাঝে নূন্যতম দূরত্ব বজায় না রাখা হয়, তবে সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেন, “রোগীর চাপের কারণে অনেক সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে চেম্বারে অবশ্যই ভেন্টিলেশন এবং আসন বিন্যাসে সতর্কতা থাকা জরুরি।”
কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন:
সাধারণ রোগীরা মনে করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া। রোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চেম্বার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না ফিরলে সংক্রমণের এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়।