Home আন্তর্জাতিক  চিনির বাম্পার উৎপাদন: সরবরাহ উদ্বৃত্তে নিম্নমুখী বাজার দর

 চিনির বাম্পার উৎপাদন: সরবরাহ উদ্বৃত্তে নিম্নমুখী বাজার দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বের প্রধান চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে চিনির এক বিশাল উদ্বৃত্ত (Surplus) তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে চিনির দাম এখন নিম্নমুখী।

উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ আন্তর্জাতিক চিনি সংস্থা (ISO) এবং মার্কিন কৃষি বিভাগ (USDA)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বিপণন বর্ষে বিশ্বজুড়ে চিনির উৎপাদন চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে। সংস্থাগুলোর মতে, এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১.২ থেকে ৩.৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন পর্যন্ত হতে পারে। মূলত ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ডে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উৎপাদনই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

শীর্ষ তিন উৎপাদনকারীর বর্তমান চিত্র

১. ব্রাজিল: বিশ্বের বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী এই দেশটিতে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখ মাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া কাটিয়ে এবার ৪৪ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

২. ভারত: অভ্যন্তরীণ বাজারে চিনির পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় ভারত সরকার অতিরিক্ত ৫ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। ভারতের এই রপ্তানি সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে চিনির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দরপতন ত্বরান্বিত হয়েছে।

৩. থাইল্যান্ড: ‘লা নিনা’ (La Niña) আবহাওয়ার প্রভাবে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত থাইল্যান্ডের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে দেশটি ১০.২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের পথে রয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বাজার দরের গতিপ্রকৃতি

উৎপাদন বৃদ্ধির এই খবরে নিউইয়র্ক ও লন্ডনের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে চিনির দাম কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির (Raw Sugar) দাম প্রতি পাউন্ড ১৩.৬ থেকে ১৪.১ ইউএস সেন্টের মধ্যে ওঠানামা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত এক মাসের মধ্যে এটি চিনির সর্বনিম্ন দাম। সরবরাহ ও চাহিদার এই ভারসাম্যহীনতা চিনির বাজারকে আরও কিছুদিন নিম্নমুখী রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেল ও শিপিং খাতের প্রভাব

চিনির দামে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে পরিবহন খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ বৃদ্ধির খবর এই লজিস্টিক চ্যালেঞ্জকে ছাপিয়ে গেছে। এছাড়া ব্রাজিলের চিনিকলগুলো ইথানল তৈরির চেয়ে চিনি উৎপাদনে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় বাজারে সরবরাহ আরও বেড়েছে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, বছরের দ্বিতীয় ভাগে ব্রাজিল ও এশিয়ার নতুন চিনি পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করলে দাম আরও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, যা আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে।


businesstoday24.com ফলো করার ও আপনার মূল্যবান মন্তব্য করার অনুরোধ রইল।