বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেলখানায় বন্দি থাকা সেই শেষ ২৫ জন বাংলাদেশিও অবশেষে মুক্তি পেলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সমর্থনে প্রবাসে বিক্ষোভ করে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া এই নাগরিকদের ক্ষমা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঐতিহাসিক ক্ষমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেরে আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জনসহ সব বাংলাদেশিই এখন মুক্ত।
মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করা আনুষ্ঠানিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ মানবিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউএই প্রেসিডেন্ট। মূলত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই এই প্রবাসীদের মুক্তির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে আসছিল।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: “এই মানবিক উদ্যোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের করুণা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যকার গভীর ভ্রাতৃসুলভ সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
পটভূমি ও কারামুক্তি
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে চলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংহতিতে আমিরাতের রাস্তায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এই প্রবাসীরা। দেশটির কঠোর আইন অনুযায়ী জনসমক্ষে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মোট মুক্তি: শেষ দফার ২৫ জনসহ আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এখন মুক্ত।
ফেরা: ক্ষমাপ্রাপ্ত ২৫ জনকেই ইতিমধ্যে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ইতিহাস: ইতিপূর্বেও কয়েক দফায় বড় একটি অংশকে ক্ষমা করেছিলেন ইউএই প্রেসিডেন্ট।
কূটনৈতিক বিজয়: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গণক্ষমা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য। প্রবাসীদের কর্মসংস্থান রক্ষা এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত বছর তিন দফায় বেশ কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। আজকের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আমিরাতের কারাগারে বন্দি থাকা বাংলাদেশি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।