পর্ব ১:
২০০৬ সালে ওমান সফর: স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে দেখা
কামরুল ইসলাম
২০০৬ সালের সেই দিনটির কথা আজও মগজের কোণে এক উজ্জ্বল ক্যানভাস হয়ে আছে। ঢাকা থেকে আমাদের সাংবাদিক দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি সুপরিসর বিমানে। এই সফরটি ছিল বিশেষ গুরুত্বের, কারণ এটি ছিল ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের সরাসরি আমন্ত্রণে একদল সাংবাদিকের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সফর। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় আমাদের প্রথম যাত্রা বিরতি বা ট্রানজিট ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে। দীর্ঘ আকাশপথ পাড়ি দিয়ে যখন আমরা মাস্কাটের ছোট ফ্লাইটে উঠলাম, তখন চারদিকে অন্ধকারের চাদর।

দূতাবাসের আমন্ত্রণ ও সাংবাদিকবান্ধব রাষ্ট্রদূত
বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের জীবনগাথা সরাসরি দেখার লক্ষ্যে ওমান দূতাবাস এই সফরের আয়োজন করেছিল। ওমানে তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ গোলাম আকবর খোন্দকার।
তিনি সারাজীবনই সাংবাদিকবান্ধব। তাঁর বিশেষ উদ্যোগে এবং দূতাবাসের নিখুঁত পরিকল্পনায় আমাদের এই সপ্তাহব্যাপী সফরের প্রতিটি ধাপ সাজানো হয়েছিল। মধ্যরাতের তপ্ত আবহাওয়ায় বিমানবন্দরে যখন পা রাখলাম, তখন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে এই সফরটি হতে যাচ্ছে এক রাজকীয় অভিজ্ঞতার সূচনা।
সিব বিমানবন্দরে সেই শান্ত রাত্রি
যখন আমাদের বিমানটি ওমানের তৎকালীন ‘সিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে’ (বর্তমানে যা মাস্কাট ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট) চাকা ছুলো, তখন বেশ রাত। রাতের নিস্তব্ধতায় বিমানবন্দরটি ছিল ভীষণ শান্ত ও সুশৃঙ্খল। বিমান থেকে নেমে বাইরে পা রাখতেই মরুভূমির সেই চিরচেনা তপ্ত আর শুষ্ক বাতাসের ঝাপটা আমাদের স্বাগত জানাল।
পাহাড়ের দীর্ঘ ছায়াগুলো মধ্যরাতের মাস্কাটে এক অদ্ভুত গাম্ভীর্য ছড়িয়ে রেখেছিল। দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমাদের নিয়ে রওনা হলেন শহরের অভিজাত এলাকা আল-কুরুমের (Al Qurum) দিকে।











