বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার মাইলফলক অতিক্রম করল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে।
সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, যা আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দরের বিস্তারিত:
বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, মানভেদে স্বর্ণ ও রুপার দামের চিত্র নিম্নরূপ:
২২ ক্যারেট স্বর্ণ: ২,৩২,০৫৫ টাকা (ভরি)
২১ ক্যারেট স্বর্ণ: ২,২১,৪৯৯ টাকা (ভরি)
১৮ ক্যারেট স্বর্ণ: ১,৮৯,৮৯০ টাকা (ভরি)
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: ১,৫৬,৮৮১ টাকা (ভরি)
স্বর্ণের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা।
বাজারের চিত্র: ‘দোকানি আছে, ক্রেতা নেই’
রাজধানীর বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে চরম স্থবিরতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা এখন দোকানের ভেতরে পা রাখছেন না।
বনানীর এক জুয়েলারি মালিক আক্ষেপ করে বলেন, “দাম বাড়লে আমাদের লাভ হয় না, উল্টো বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ এখন সোনা কেনার চেয়ে জীবন বাঁচানো নিয়ে বেশি চিন্তিত।”
কারিগরদের চোখে অন্ধকার
স্বর্ণের বাজার মন্দা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কারিগররা। নতুন অর্ডার না থাকায় কারখানায় কাজ নেই বললেই চলে। অনেক কারিগর কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
তাঁতীবাজারের এক স্বর্ণকার বলেন, “আগে বিয়ের মৌসুমে দম ফেলার সময় পেতাম না, আর এখন সারা দিন বসে থেকেও একটা নূপুর মেরামতের কাজ পাওয়া যাচ্ছে না।”
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া: বিয়ে ছাড়া নেই চাহিদা
বাংলাদেশে স্বর্ণ মূলত বিয়ে বা বিশেষ পারিবারিক অনুষ্ঠানের অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উন্নত বিশ্বের মতো এখানে স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রবণতা অনেক কম। সাধারণ মানুষের মতে, এই দাম বাড়া বা কমায় তাদের কিছু যায় আসে না।
কারণ, মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা থেকে স্বর্ণ এখন অনেক দূরে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের পুরো মনোযোগ এখন নিত্যপণ্যের বাজারের দিকে, স্বর্ণের বাজারের দিকে নয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির কারণে এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি। তবে দাম যখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন অলঙ্কার শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।