Home কক্সবাজার আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবি: ২৬৪ বাংলাদেশি নিখোঁজ

আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবি: ২৬৪ বাংলাদেশি নিখোঁজ

নিখোঁজদের কয়েকজন। ছবি সংগৃহীত
 ৯ জনকে উদ্ধার করল ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, কক্সবাজার:
দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ট্রলারে থাকা ২৭৩ জন আরোহীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ২৬৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা বর্তমানে টেকনাফ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
সূত্র জানায়, গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে দেখতে পায়। জাহাজের নাবিকরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করেন। পরে কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজের মাধ্যমে তাদের টেকনাফে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধারকৃতদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় ৪-৫ দিন আগে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রলারটি বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে যায়। তারা জানান, ট্রলারটিতে নারী ও শিশুসহ আড়াই শতাধিক যাত্রী ছিল এবং চোখের সামনেই অনেককে সাগরে তলিয়ে যেতে দেখেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের পরিচয়
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ট্রলারে থাকা যাত্রীরা মূলত কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তবে মোট যাত্রীর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে এখনো তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা প্রিয়জনের খোঁজে টেকনাফ মডেল থানায় ভিড় করছেন, কিন্তু কারো ভাগ্যেই এখনো সুসংবাদ জোটেনি।
প্রশাসনের তৎপরতা ও আইনি ব্যবস্থা
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও টেকনাফ থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মানবপাচারের সাথে জড়িত দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জন দালালকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালী দালালচক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রকাশ্যে মানবপাচার চালিয়ে আসছে। কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সমুদ্রপথে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

businesstoday24.com-এর সাথেই থাকুন। এই মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে আপনার কোনো তথ্য বা মতামত থাকলে কমেন্ট বক্সে জানান এবং জনসচেতনতায় প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন।