আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘ব্লকড’ বা অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় ১২ তারিখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, বিশ্বের শক্তিশালী মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সকল জাহাজের ওপর অবরোধ প্রক্রিয়া শুরু করবে।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও ‘অবৈধ টোল’ বিতর্ক
ইরান দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ‘টোল’ বা শুল্ক আদায় করে আসছিল এবং মাইন পেতে রাখার ভয় দেখিয়ে সমুদ্রপথ অবরোধ করে রেখেছিল। একে ‘বিশ্বব্যাপী চাঁদাবাজি’ (Global Extortion) হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানকে আর এই অবৈধ চাঁদাবাজি থেকে লাভবান হতে দেওয়া হবে না।”
ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যেসব জাহাজ ইরানকে টোল পরিশোধ করেছে, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের তল্লাশি ও আটক করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অবৈধ টোল দেওয়া জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের কোনো গ্যারান্টি দেওয়া হবে না।”
ভেস্তে গেল ৪৬ বছরের ঐতিহাসিক বৈঠক
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ ৪৬ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল দেশ দুটির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
টানা দুই দিনের ম্যারাথন আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নির্মূল এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষ একমত হতে না পারায় উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স আলোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সমরবাহিনী
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসেন’ এবং ‘মাইকেল মারফি’ ইতিমধ্যে আরব সাগরে কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য ইরান কর্তৃক স্থাপিত সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করা এবং নিরাপদ রুট তৈরি করা। মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অভিযানে আন্ডারওয়াটার ড্রোনসহ আরও অতিরিক্ত শক্তি মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।
চীন ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই প্রথম তিনটি বিশাল তেলের ট্যাঙ্কার (একটি লাইবেরিয়ার এবং দুটি চীনের) হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
ইরান বর্তমানে দিনে মাত্র ১০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলেও, মার্কিন ব্লকড কার্যকর হলে চীন ও রাশিয়ার মতো ইরানের মিত্র দেশগুলোর তেল রপ্তানি পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা আক্রমণ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।