Home Third Lead নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বসেরা ফিনল্যান্ড ও ফিলিপাইন

নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বসেরা ফিনল্যান্ড ও ফিলিপাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের ব্যবধান ঘুচিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছে ফিনল্যান্ড ও ফিলিপাইন। ২০২৬ সালের সর্বশেষ বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফিনল্যান্ড ৪৫.১ শতাংশ এবং ফিলিপাইন ৪৪.৯ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করে বিশ্বের শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে।
নেতৃত্বের এই সমতা কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক নয়, বরং দেশ দুটির টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
ফিনল্যান্ডের শ্রেষ্ঠত্ব ও সামাজিক কাঠামো
ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড দীর্ঘকাল ধরেই জেন্ডার ইকুয়ালিটি বা লিঙ্গ সমতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ৪৫.১ শতাংশ হার নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করা ফিনল্যান্ডের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাদের শক্তিশালী আইনি কাঠামো এবং কাজের পরিবেশে নমনীয়তা। দেশটির কর্পোরেট বোর্ড থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়—সর্বত্রই নারীর জোরালো উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।
২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফিনল্যান্ডে নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষা এবং নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশেষ বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা তাদের শীর্ষপদে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে।
ফিলিপাইনের চমকপ্রদ উত্থান
এশিয়ার দেশ হিসেবে ফিলিপাইনের ৪৪.৯ শতাংশ হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নারীর ক্ষমতায়নে ফিলিপাইন এখন রোল মডেল। দেশটির বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যায়ে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পারিবারিক কাঠামোতে নারীর গুরুত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির ফলেই ফিলিপাইন আজ এই অবস্থানে।
শীর্ষ তালিকার অন্যান্য দেশ
নারীর ক্ষমতায়নের এই দৌড়ে ফিনল্যান্ড ও ফিলিপাইনের কাছাকাছি অবস্থান করছে জ্যামাইকা, বার্বাডোস এবং সিঙ্গাপুর।
জ্যামাইকা ও বার্বাডোস: ক্যারিবীয় দেশগুলোতে সামাজিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ঐতিহাসিকভাবেই বেশি, যা ২০২৬ সালের পরিসংখ্যানে আরও সুসংহত হয়েছে।
সিঙ্গাপুর: এশিয়ান অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র সিঙ্গাপুর প্রযুক্তি এবং ফিন্যান্স খাতে নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধিতে সফল হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি কোটা নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদের শীর্ষ পর্যায়ে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় সিঙ্গাপুর প্রশংসিত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ
লিঙ্কডইন এবং জাতিসংঘ (UN Women)-এর যৌথ বিশ্লেষণ বলছে, বৈশ্বিক গড় নেতৃত্বের হার ৩১ শতাংশ হলেও এই শীর্ষ দেশগুলো প্রমাণ করেছে যে সঠিক নীতি এবং সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটলে ৫০-৫০ সমতা অর্জন করা সম্ভব।
তবে এখনো বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও এই হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশের নিচে আটকে আছে, যা ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিনল্যান্ড ও ফিলিপাইনের এই মডেল অনুসরণ করলে অন্যান্য দেশগুলোও দ্রুত জেন্ডার প্যারিটি বা লিঙ্গ সমতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।