বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন-এর উপদেষ্টা থাকাকালীন চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া, নিজের শারীরিক জটিলতা এবং খরচের চুলচেরা বিশ্লেষণ দিয়ে তিনি জানিয়েছেন যে, সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই রাষ্ট্রীয় সুবিধায় তাঁর এই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারি নিয়ম ও আইনি ভিত্তি
সাবেক উপদেষ্টা তাঁর স্ট্যাটাসে স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশে মন্ত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অধীন। ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড डिप्टी মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ-বিদেশে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়ার অধিকারী।
বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হয়: ১. মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ: দেশের উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ড যদি প্রত্যয়ন করে যে সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়, কেবল তখনই বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২. সরকার প্রধানের অনুমোদন: বোর্ডের সুপারিশের পর সরকার প্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হয়। ৩. বিল বা ভাউচার পেশ: দেশে ফেরার পর খরচের প্রকৃত রসিদ ও ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হয়, যা যাচাই-বাছাই শেষে সরকারিভাবে পরিশোধ করা হয়।
সাবেক উপদেষ্টা জানান, তিনি মন্ত্রী পদমর্যাদায় সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আইনানুসারেই সরকার এই ব্যয় বহন করেছে।
শারীরিক জটিলতা ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসা
নিজের স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিবরণ দিয়ে সাবেক উপদেষ্টা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল হৃদরোগ, হাই ডায়াবেটিস (দিনে ৩ বার ইনসুলিন), উচ্চ রক্তচাপসহ নানাবিধ সমস্যায় ভুগছেন। ২০১৫ সালে তাঁর হার্টে রিং বসানো হয় এবং এ পর্যন্ত ৫ বার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে।
উপদেষ্টা থাকাকালীন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়। পরীক্ষায় তাঁর হৃদস্পন্দন অনিয়মিত (Atrial Fibrillation / AFib) ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা লিখিতভাবে জানান যে, এর জন্য প্রয়োজনীয় জটিল “ক্যাথেটার এবলেশন” অপারেশন করার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি দেশে নেই। ফলশ্রুতিতে চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাড হাসপাতালে যান।
খরচের হিসাব: ১৭ ও ৬৫ লাখ টাকার বিবরণ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ট্যাটাসে সাবেক উপদেষ্টা তাঁর চিকিৎসার খরচের দুটি ধাপের নিখুঁত বিবরণ দিয়েছেন:
- প্রথম ধাপ (প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা): বামরুনগ্রাড হাসপাতালে এনজিওগ্রাম ও ডায়াগনোসিসের পর দেখা যায় তাঁর হৃদপিণ্ডের দেওয়ালে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। অপারেশন না করালে ব্রেইন স্ট্রোক বা হার্ট ফেইলরের ঝুঁকি ছিল। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রথমে ওষুধ দিয়ে তা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পবিত্র হজের দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই ধাপের খরচ ছিল প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা।
- দ্বিতীয় ধাপ (প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা): হজের দায়িত্ব পালন শেষে পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকদের পরামর্শে গত জানুয়ারি মাসে তাঁর অপারেশন সম্পন্ন হয়। বামরুনগ্রাড হাসপাতালের বিল আরও বেশি আসলেও থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে কিছু ডিস্কাউন্ট পাওয়া যায়। এই ধাপে বিল আসে প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা।










