বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটি বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় তামাকের ভয়াবহ রূপ এবং মানবদেহে এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে প্রতি বছরই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে এই দিবসটি উদযাপিত হয়, যার মূল লক্ষ্য থাকে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে এনে একটি সুস্থ ও দীর্ঘজীবী প্রজন্ম গড়ে তোলা।
বর্তমান সময়ে যুব সমাজকে তামাকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করা এবং তামাক কোম্পানির আগ্রাসী বিপণন নীতি রুখে দেওয়া এই দিবসের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
তামাক এবং ধূমপান কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, এটি পুরো পরিবার এবং সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো মারাত্মক রোগের পেছনে প্রধান অপরাধী হিসেবে কাজ করে তামাক।
বিড়ি-সিগারেটের ধোঁয়ায় কয়েক হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে অন্তত ৭০টি উপাদান সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী। কেবল ধূমপানই নয়, জর্দা, গুল বা সাদা পাতার মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকও সমপরিমাণ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, যা মুখের ক্যানসার ও লিভার নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো পরোক্ষ ধূমপান। যিনি নিজে ধূমপান করেন না, কিন্তু ধূমপায়ীর পাশে থাকেন—বিশেষ করে নারী ও শিশুরা—তারা এর মাধ্যমে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘরে বা পাবলিক প্লেসে ধূমপানের কারণে শিশুরা শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, একজনের ক্ষতিকর অভ্যাসের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে পুরো পরিবারকে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ই-সিগারেট বা ভেপিংয়ের মতো নতুন মাত্রার নেশা তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে, যা সাধারণ সিগারেটের মতোই সমান বিপজ্জনক।
তামাকমুক্ত সমাজ গঠন কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ, তামাকজাত পণ্যের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং এর প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা জরুরি। একই সাথে তরুণদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
আসুন, এই বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞা করি—নিজে তামাক বর্জন করব এবং প্রিয়জনদের এই বিষাক্ত অভ্যাস থেকে দূরে রাখব। তামাকের পেছনে অর্থ অপচয় না করে সেই অর্থ পরিবারের পুষ্টি ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করি। জীবন অত্যন্ত মূল্যবান, তাই একে কোনো মাদকের হাতে সঁপে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য আজই তামাককে চিরতরে ‘না’ বলুন।