ইতিবাচক রাজনীতির সন্ধানে
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও জাতীয় ঐক্যের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন ।
সফরের সময়সূচী ও গন্তব্য
বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার নিশ্চিত করেছেন যে, আজ থেকেই দেশে ‘ইতিবাচক ধারার রাজনীতির’ সূচনা হতে যাচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই তারেক রহমানের আজকের এই সফর:
সন্ধ্যা ৭টা: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবন (বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা)।
রাত ৮টা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবন (বাড্ডা)।
কেন এই আকস্মিক সফর? (বিশ্লেষণ)
সাধারণত নির্বাচনের পর বিজয়ীরা নিজ কার্যালয়ে অভিনন্দন গ্রহণ করেন। কিন্তু তারেক রহমান নিজে মিত্রদের বাসায় গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানো এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম:
জাতীয় ঐক্যের বার্তা: বিশাল ব্যবধানে (২০৯ আসন) জয়ী হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমান প্রমাণ করতে চাইছেন যে, বিএনপি একক আধিপত্যে নয় বরং সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ চালাতে চায়।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার: দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরার পথে জামায়াতে ইসলামী (৬৮ আসন) এবং এনসিপির মতো শক্তিগুলোর সমর্থন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার জায়গাটি মজবুত হবে।
আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার: গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবিত করা এবং দেশ ও মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেছেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি হয়তো প্রাথমিক পর্যায়ের সরকারি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন।
“বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার যে সংস্কৃতি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছিল, তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ সেই সংস্কৃতি ভাঙার একটি জোরালো ইঙ্গিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।”
নির্বাচনের ফলাফল একনজরে (২৯৯টির মধ্যে ২৯৭ আসনের ঘোষণা)
রাজনৈতিক শক্তি |
প্রাপ্ত আসন সংখ্যা |
বিএনপি |
২০৯ |
জামায়াতে ইসলামী |
৬৮ |
১১-দলীয় জোট (জামায়াত নেতৃত্বাধীন) |
০৯ |
বিএনপি জোটের অন্যান্য শরিক |
০৩ |










