আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধের মাঝেই ঘনিয়ে আসছে কূটনৈতিক লড়াইয়ের মেঘ। দীর্ঘদিনের সংঘাত কাটিয়ে শান্তি আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাল্টাপাল্টি শর্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে তেহরানের “অপ্রত্যাশিত” দাবি, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে আলোচনার টেবিল বসার আগেই টালমাটাল হওয়ার পথে।
একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্টের বরাতে জানা গেছে, ইরানের বর্তমান অবস্থানের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক সংস্থা ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দেশের নীতি নির্ধারণে তাদের প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের প্রধান শর্তগুলো হলো:
মার্কিন বিদায়: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।
ক্ষতিপূরণ ও রাজস্ব: সাম্প্রতিক হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পূরণ এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের সার্বভৌম অধিকার দিতে হবে।
নিরাপত্তা ও অস্ত্র: ইসরায়েলি হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে কোনো আন্তর্জাতিক সীমাবদ্ধতা রাখা চলবে না।
নিষেধাজ্ঞা মুক্তি: ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।
ওয়াশিংটনের ১৫ দফা ও ‘অবাস্তব’ তকমা
তেহরানের এই অবস্থানকে সরাসরি “অবাস্তব” বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনায় ইরানকে কোণঠাসা করার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। ওয়াশিংটনের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের (IAEA) বাধাহীন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।
আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব কমিয়ে আনা।
ট্রাম্পের আশা ও বর্তমান সংঘাত
দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশাবাদী। তিনি দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কূটনৈতিক এই তৎপরতার সমান্তরালে যুদ্ধক্ষেত্রও সমানভাবে উত্তপ্ত। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলার ঘটনায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনার কথা চললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নতুন কোনো বড় সংঘাতের পূর্বাভাস হতে পারে। শান্তি আলোচনার এই পথ যতটা না কূটনীতির, তার চেয়ে বেশি মনস্তাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।










