নিপাহ ভাইরাস একটি মারাত্মক প্রাণঘাতী ভাইরাস যা মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশে শীতকালীন সময়ে কাঁচা খেজুরের রস পানের মাধ্যমে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) জনস্বার্থে এই সচেতনতামূলক তথ্যগুলো প্রচার করেছে।
২. সংক্রমণের উৎস ও বিস্তার
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খেজুরের রস সংগ্রহের সময় বাদুড় রসের হাঁড়িতে মুখ দিলে বা তাতে লালা বা মলমূত্র ত্যাগ করলে ভাইরাসটি রসে মিশে যায়। সেই কাঁচা রস পান করলে সরাসরি মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং আক্রান্ত ব্যক্তি থেকেও অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে।
৩. রোগের লক্ষণসমূহ
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয়:
জ্বর ও তীব্র মাথাব্যথা: প্রাথমিক পর্যায়ের প্রধান লক্ষণ।
শ্বাসকষ্ট: ফুসফুসে সংক্রমণের ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
বমি ভাব: শারীরিক অস্বস্তি ও বারবার বমি হওয়া।
অজ্ঞান হওয়া: ভাইরাস মস্তিষ্কে আক্রমণ করলে রোগী চেতনা হারাতে পারে।
গলা ব্যথা ও শরীর ব্যথা: মাংসপেশিতে ব্যথা ও গলার ভেতরে অস্বস্তি।
৪. ঝুঁকির মাত্রা
নিপাহ ভাইরাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। সংক্রমণের ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু ঘটে। যেহেতু এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক বা টিকা এখনো সহজলভ্য নয়, তাই প্রতিরোধই হলো প্রধান উপায়।
৫. প্রতিরোধমূলক নির্দেশনা
জনসাধারণকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
কাঁচা রস বর্জন: কোনো অবস্থাতেই খেজুরের রস কাঁচা পান করা যাবে না।
তাপ প্রয়োগ: রস পানের আগে তা অবশ্যই ভালোভাবে জাল দিয়ে বা ফুটিয়ে নিতে হবে। উচ্চ তাপে ভাইরাসের জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়।
সতর্কতা: বাদুড়ে খাওয়া বা আংশিক ভক্ষণ করা কোনো ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
উপসংহার
নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কাঁচা খেজুরের রস পানের সাময়িক তৃপ্তি জীবনের বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই সর্বদা রস ফুটিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং পরিবারের অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।
উৎস: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (খাদ্য মন্ত্রণালয়)