বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ভোলা: ভোলার লালমোহন উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উপজেলার রামাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজার এলাকায় এই সংঘাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার শুরু শুক্রবার সকালে। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর কয়েকজন নারী কর্মী রায়চাঁদ বাজার এলাকায় গণসংযোগে বের হন। তারা স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির কর্মীরা তাদের বাধা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে এই ঘটনা নিয়ে বিডিপি কর্মীর স্বামী ও জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন ফোনে কথা বলতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। এর জের ধরে বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকেলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই নেতার উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করা হয়।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সন্ধ্যার পর জোটের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা এলাকা ত্যাগ করার সময় পেছন থেকে অতর্কিত হামলার শিকার হন। এর পরপরই দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
বিএনপি: ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি জসিম মাস্টার, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি আক্তার হোসেন নান্নুসহ ১২ জন।
১১ দলীয় জোট: জামায়াত নেতা সোলাইমান জমদার ও আবু জাফরসহ ৮ জন।
আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল দাবি করেন, “সমঝোতা শেষে ফেরার পথে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করে বলেন, “গত কয়েকদিন ধরেই বিএনপি আমাদের প্রচারে বাধা দিচ্ছে। আজ নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করার পর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।”
খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম জানান, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”










