"জনতার মুখোমুখি নেতা: ভাষানটেকে সরাসরি আলাপচারিতায় তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি
ফরিদুল আলম, ঢাকা: গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তৃতার বৃত্ত ভেঙে এক অভিনব প্রচারণার সাক্ষী হলো ঢাকা-১৭ আসনের ভাষানটেক। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে কোনো নেতা কেবল ভাষণ দিলেন না, বরং মঞ্চ হয়ে উঠল সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ জানানোর উন্মুক্ত মঞ্চ।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও ওই আসনের প্রার্থী তারেক রহমান এদিন নিজেই মাইক তুলে দিলেন রিকশাচালক, গার্মেন্টস কর্মী আর সাধারণ শিক্ষার্থীর হাতে।
‘আমি না, আপনারাই বলুন’
জনসভার শুরুতেই প্রথাগত রাজনৈতিক গাম্ভীর্য ঝেড়ে ফেলেন তারেক রহমান। কোনো দলীয় কর্মী নয়, বরং মঞ্চে ডেকে নেন এলাকার সাধারণ ভোটারদের। সেখানে উঠে আসেন ভ্যানচালক মোহাম্মদ জুয়েল, শিক্ষার্থী হেনা আক্তার এবং গার্মেন্টস কর্মী লিলি বেগম।
তারেক রহমানের সরাসরি প্রশ্ন ছিল— “আমি প্রার্থী, আমি নির্বাচিত হলে আপনারা আমার কাছে ঠিক কী চান?”
উঠে এল বস্তিবাসীর স্বপ্ন ও যন্ত্রণার কথা
ভ্যানচালক জুয়েল কোনো দ্বিধা না রেখেই জানান এলাকার প্রধান সংকটের কথা— বস্তিবাসীর স্থায়ী পুনর্বাসন। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে একই এলাকায় থেকেও মাথা গোঁজার ঠাঁই না পাওয়ার আক্ষেপ ফুটে ওঠে তার কণ্ঠে। মঞ্চে দাঁড়িয়েই তারেক রহমান উপস্থিত হাজারো জনতার কাছে জানতে চান তারা জুয়েলের সাথে একমত কি না। সমস্বরে ‘একমত’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় পুরো জনসভা।
কর্মসংস্থান ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি
মঞ্চে আসা লিলি বেগম তুলে ধরেন শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের কষ্ট। নিজের ছেলে মাস্টার্স পাশ করে চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ব্যর্থ হয়েছেন— এমন বাস্তবতায় লিলি যখন কর্মসংস্থানের দাবি জানান, তারেক রহমান তা পুরো বাংলাদেশের সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
এ সময় তিনি তার ইশতেহারে থাকা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদর্শন করেন। গৃহিণী শান্তার প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার গঠন করতে পারলে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে এই কার্ডের মাধ্যমে মাসে নগদ অর্থ বা সমপরিমাণের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
আবেগঘন ও হাস্যরসাত্মক মুহূর্ত
প্রচারণার ভিড়ে কিছুটা ব্যক্তিগত ছোঁয়াও পায় এই জনসভা। এক নারী ভোটার যখন শৈশবে তারেক রহমানের বাগানের পেয়ারা চুরি করে খাওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান, তখন হাসিমুখে তারেক রহমান উত্তর দেন— “আপনি আপনার বাড়িতে পেয়ারা গাছ লাগান, আর আমাকে দুটি পেয়ারা দিয়ে যাবেন।” তবে পরক্ষণেই সেই নারী যখন তার জমি দখলের অভিযোগ তোলেন, তারেক রহমান ন্যায়ের আশ্বাস দেন।
এক নজরে ঢাকা-১৭ আসনের মূল ফোকাস:
পুনর্বাসন: বস্তিবাসীর স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করা।
কর্মসংস্থান: শিক্ষিত বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা।
ফ্যামিলি কার্ড: নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য মাসিক খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা।
পরিবেশ উন্নয়ন: ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মতো ভাষানটেকের উন্নয়ন।
বক্তা হিসেবে নয়, বরং একজন শ্রোতা হিসেবে সাধারণ মানুষের পালস বুঝে নেওয়ার এই নতুন ভঙ্গি উপস্থিত হাজার হাজার এলাকাবাসীকে মুগ্ধ করেছে। সমাবেশে ডা. জুবাইদা রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।