Home নির্বাচন ছেলের প্রতীক ‘শাপলা কলি’, বাবা চাইছেন ‘ধানের শীষ’

ছেলের প্রতীক ‘শাপলা কলি’, বাবা চাইছেন ‘ধানের শীষ’

ছবি সংগৃহীত

নির্বাচনী মাঠে বাবা-ছেলে ‘মুখোমুখি’

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়ায় উত্তাল লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন। তবে এই আসনের নির্বাচনী লড়াই এখন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে গেছে অন্দরের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত।
নির্বাচনী মাঠে দেখা দিয়েছে এক নজিরবিহীন ও ‘টক অব দ্য টাউন’ দৃশ্য—যেখানে ছেলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন খোদ জন্মদাতা পিতা।
আদর্শের লড়াইয়ে ‘রক্তের টান’ বনাম ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার’
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই মাহবুব আলম এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া এই রাজনীতিক পুত্রের ‘শাপলা কলি’র মোহ ত্যাগ করে কোমর বেঁধে নেমেছেন দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর প্রচারে।
পথসভায় ধানের শীষের গর্জন
শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইছাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন জনপদ ঘুরে দেখা গেছে এক অদ্ভুত চিত্র। ছেলে যখন নিজের প্রতীকের প্রচারে ব্যস্ত, তখন বাবা আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমের হাত ধরে একের পর এক পথসভায় অংশ নিচ্ছেন।
মাইক্রোফোন হাতে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলছেন—“আমার ভোট এবং সমর্থন ধানের শীষের পক্ষেই।”
কী বলছেন বাবা ও ছেলে?
ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর রাজনৈতিক আদর্শের এই সংঘাত নিয়ে এলাকায় কৌতূহলের শেষ নেই। এ বিষয়ে আজিজুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বলেন:

“রাজনীতিতে আমার আদর্শ এবং অবস্থান পাহাড়ের মতো সুদৃঢ়। আমি দীর্ঘকাল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে আদর্শ বিসর্জন দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বাবা হিসেবে ছেলের জন্য আমার দোয়া সবসময় আছে, কিন্তু ভোট এবং সমর্থন থাকবে কেবল ধানের শীষের জন্যই।”

অন্যদিকে, এনসিপির প্রার্থী মাহবুব আলম এই বিষয়টি বেশ পরিপক্কতার সঙ্গেই সামলেছেন। বাবার এই ভিন্ন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মৃদু হেসে জানান:

“বাবার বক্তব্যের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এই নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যেকেরই নিজস্ব মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।”

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। রক্তের সম্পর্কের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক আদর্শের এই জয়গান শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কার দিকে পাল্লা ভারি করে, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষায় রামগঞ্জবাসী।