বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। অবশেষে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত হচ্ছে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) (আর-১৭০) আঞ্চলিক মহাসড়ক (কালাবিবির দিঘী থেকে ঈদমনি)’।
মঙ্গলবার (০৯ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আনোয়ারার কালাবিবির দিঘী থেকে শুরু হয়ে বাঁশখালী, পেকুয়া ও বদরখালী হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া (ঈদমনি) পর্যন্ত বিস্তৃত এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি মূলত এই অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির ধারণক্ষমতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।
প্রকল্পের গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব:
এই সড়কটি যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথমত, এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মূল মহাসড়কের ওপর বিদ্যমান অতিরিক্ত চাপ কমাতে অন্যতম সেরা বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে বাঁশখালী ও পেকুয়ার বিশাল জনগোষ্ঠী এখন অত্যন্ত কম সময়ে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামের সাথে সংযুক্ত হতে পারবেন, যা এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি দুই-ই কমাবে।
দ্বিতীয়ত, এটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বাঁশখালী ও পেকুয়া অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লবণ শিল্প, মৎস্য চাষ এবং উৎপাদিত কৃষি পণ্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী খরচে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। একই সাথে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর এবং মহেশখালীর বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুবিধার সাথে এই অঞ্চলের সরাসরি সংযোগ তৈরিতে এই সড়কটি অনন্য ভূমিকা পালন করবে।
তৃতীয়ত, সড়কটি পর্যটন শিল্পের প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। কক্সবাজারের মূল পর্যটন জোনের বাইরেও আনোয়ারা ও বাঁশখালীর যে সুপ্ত উপকূলীয় পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে, উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে তার পূর্ণ বিকাশ ঘটবে।
প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে তা সামগ্রিকভাবে দেশের দক্ষিণ-আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এক নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
businesstoday24.com-এর সাথেই থাকুন এবং আমাদের ফলো করুন।