বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আন্তর্জাতিক শিপিং বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে ২০২৬ সাল। কন্টেইনার জাহাজের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় জোগানের আধিক্যের কারণে এ বছর আন্তর্জাতিক জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইট চার্জে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।
শিপিং বাজার বিশ্লেষক সংস্থা জেনেটা (Xeneta) এবং অন্যান্য বৈশ্বিক ইনডেক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর স্পট রেট গত বছরের তুলনায় গড়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।
২০২৬ সালে বৈশ্বিক শিপিং বহরে নতুন নতুন বিশালাকায় জাহাজ যুক্ত হওয়ায় সামগ্রিক সক্ষমতা প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। রেকর্ড সংখ্যক নতুন জাহাজ নির্মাণের অর্ডার এবং লোহিত সাগর সংকটের পরবর্তী সময়ে রুটের সমন্বয় এই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। সক্ষমতা বাড়লেও সে তুলনায় বিশ্ব বাণিজ্যের চাহিদা না বাড়ায় শিপিং লাইনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতেও প্রভাব: কেবল স্পট রেট নয়, দীর্ঘমেয়াদী বা কন্টাক্ট রেটের ক্ষেত্রেও আমদানিকারকরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। বিশ্লেষকদের মতে, লং-টার্ম কন্টাক্ট রেটও গত বছরের তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ কমতে পারে।
এর ফলে বড় বড় খুচরা বিক্রেতা ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের লজিস্টিকস খরচ কমিয়ে আনার সুযোগ পাবে।
আমদানি-রপ্তানিকারকদের জন্য সুখবর: বাংলাদেশি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য এই সংবাদ অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে তৈরি পোশাক (RMG) খাতের রপ্তানি খরচ কমলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সক্ষমতা বাড়বে।
অন্যদিকে, কাঁচামাল আমদানির খরচ কমলে দেশের বাজারেও অনেক পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা প্রধান বন্দরগুলোতে শ্রমিক ধর্মঘটের মতো কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে এই পূর্বাভাসে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের জাহাজ পূর্ণ রাখতে ভাড়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে, যা সার্বিকভাবে একটি ‘শিপার-বান্ধব’ বাজার তৈরি করছে।