Home রাজনীতি মাটিরাঙ্গায় আওয়ামী লীগ-জাপা-এনসিপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে

মাটিরাঙ্গায় আওয়ামী লীগ-জাপা-এনসিপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে

বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর হাতে ফুল দিয়ে দলে যোগ দেন প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী। ছবি: সংগৃহীত
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি:  মাটিরাঙ্গায় রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে মাটিরাঙ্গা উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।
গুরুত্বপূর্ণ যারা যোগ দিলেন
বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
মো. সাইফুল ইসলাম: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মাটিরাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগ।
মো. আলাউদ্দিন: সাধারণ সম্পাদক, মাটিরাঙ্গা পৌর জাতীয় পার্টি।
লিটন বিশ্বাস: উপজেলা কমিটি সদস্য, এনসিপি।
নেতাদের বক্তব্য: কেন এই দলবদল?
যোগদান অনুষ্ঠানে নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই যাত্রায় তাদের যোগদান মাটিরাঙ্গায় বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুসংহত করবে।”
সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক জাপা নেতা মো. আলাউদ্দিন তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “জনগণের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভূমিকা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। মূলত ওয়াদুদ ভূঁইয়ার হাতকে শক্তিশালী করতেই আমরা পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী দলবদল করেছি।” অন্যদিকে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আস্থা রেখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বর্তমান ও সাবেক দলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল জানান, যারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তারা বিতর্কিত নন—এমনটা নিশ্চিত হয়েই তাদের গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এই যোগদানের গুরুত্বকে উড়িয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দলগুলোর স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা এবং এনসিপির জেলা সদস্যসচিব সুবোধ বিকাশ চাকমা উভয়েই দাবি করেছেন যে, যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই তাদের দলের সক্রিয় সদস্য নন এবং এর ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু ইউসুফ চৌধুরী, মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, নাছির আহম্মদ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালেকসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।