কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: বাংলার আকাশে-বাতাসে এখন নির্বাচনী হাওয়া। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। একদিকে চতুর্থবারের জন্য নবান্ন দখলের লক্ষ্য নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রণকৌশল, অন্যদিকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বিজেপির আগ্রাসী প্রচার—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা।
তৃণমূল কংগ্রেস: লক্ষ্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও নবীন মুখ
ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারও ভরসা রাখছেন সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর ওপর। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ব্যাপক সাফল্যকে হাতিয়ার করেই প্রচারের রূপরেখা তৈরি করছে ঘাসফুল শিবির। তবে এবার প্রার্থী তালিকায় বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে প্রায় ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে সরিয়ে নতুন ও তরুণ মুখদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে বুথভিত্তিক মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট।
বিজেপি: হিন্দুত্ব ও দুর্নীতির ইস্যুতেই বাজি
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি এবার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ দুর্নীতি ও নারী নিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলোকে জনমানসে পৌঁছে দিতে জেলাভিত্তিক আন্দোলন শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—সর্বত্রই জনসভা ও জনসংযোগ যাত্রার মাধ্যমে জমি শক্ত করার চেষ্টা চলছে। পদ্ম শিবিরের মূল অস্ত্র এখন কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর বঞ্চনার অভিযোগের পাল্টা জবাব এবং মেরুকরণের রাজনীতি।
বাম-কংগ্রেস: ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
গত নির্বাচনে আসন সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও এবার বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে তৎপর। বিশেষ করে ডিওয়াইএফআই (DYFI) এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর মাধ্যমে যুব সমাজের কর্মসংস্থানের দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছে বামেরা। আইনজীবী ও পেশাজীবীদের প্রার্থী তালিকায় অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছে টানার কৌশল নিয়েছে তারা। যদিও কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আলোচনার স্তরেই রয়েছে।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ও ভোটার তালিকা বিতর্ক
ভারতের নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে এবারের নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রায় ৬২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর নির্বাচন যে বাংলার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক লড়াই হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, শেষ হাসি কে হাসে—তৃণমূলের উন্নয়ন না কি বিরোধীদের পরিবর্তনের ডাক।
আমাদের প্রতিটি কন্টেন্টের শেষে businesstoday24.com এভাবে ফলো করা ও মন্তব্য করার অনুরোধ থাকবে।










