Home কলকাতা কলকাতার দখল কার হাতে? দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনেই লুকিয়ে ম্যাজিক ফিগার

কলকাতার দখল কার হাতে? দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসনেই লুকিয়ে ম্যাজিক ফিগার

কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। গত ১৫ মার্চ ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার পরপরই আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) জারি হয়েছে এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ও প্রচার কৌশলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের ভোট হবে দুই দফায়। ২০২১ সালের আট দফার তুলনায় এটি একটি বড় পরিবর্তন।
নির্বাচনের সময়সূচী ২০২৬
বিষয় প্রথম দফা দ্বিতীয় দফা
আসন সংখ্যা ১৫২ টি ১৪২ টি
ভোটের তারিখ ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
জেলাসাসমূহ উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি
ফলাফল ঘোষণা ৪ মে, ২০২৬ ৪ মে, ২০২৬
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): ১৭ মার্চ তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ২৯১ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিরাচরিত কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কৃষক বন্ধুর মতো সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে হাতিয়ার করে তাঁরা জয়ের হ্যাটট্রিক করতে মরিয়া।
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP): বিজেপি ১৬ মার্চ ১৪৪ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ। দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশের মতো ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে তাঁরা উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
বাম-কংগ্রেস জোট: বামফ্রন্ট ইতিমধ্যে ১৯২ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা ঘোষণা করেছে। সিপিআইএম (CPIM) নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যাদবপুর থেকে এবং যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় উত্তরপাড়া থেকে লড়ছেন। তাঁরা মূলত ‘বিকল্প রাজনীতি’ এবং বেকারত্ব ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রচার চালাচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুসমূহ
এবারের নির্বাচনে যে বিষয়গুলো ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে:
  • SIR (Special Intensive Revision): ভোটার তালিকা সংশোধন এবং অনুপ্রবেশকারী ভোটার বাদ দেওয়ার ইস্যুটি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বিতর্ক চলছে।
  • আঞ্চলিক উন্নয়ন: উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আলাদা রাজ্যের দাবি এবং দক্ষিণবঙ্গে কর্মসংস্থানের অভাব রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
  • মতুয়া ফ্যাক্টর: নাগরিকত্ব ইস্যুতে মতুয়া ভোট কোন দিকে যায়, তা দক্ষিণবঙ্গের প্রায় ৫০টি আসনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রায় ৮.৫ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে এবং প্রতি দফার ভোটে কড়া নজরদারি রাখা হবে।