Home Third Lead মাটি থেকে বাজার পর্যন্ত: কীভাবে গড়ে উঠতে পারে বিষমুক্ত কৃষি

মাটি থেকে বাজার পর্যন্ত: কীভাবে গড়ে উঠতে পারে বিষমুক্ত কৃষি

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের কৃষি আজ যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহার, মাটি-পানির দূষণ, কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং খাদ্যে বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ, তার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এখন প্রয়োজন ভবিষ্যতমুখী পরিকল্পনা। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃষকের শিক্ষা এবং বাজারচেইনের পরিবর্তন মিলিয়েই তৈরি হতে পারে একটি নতুন রোডম্যাপ, যা কৃষিকে করবে নিরাপদ, বিষমুক্ত এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই।

প্রথমত, কৃষি গবেষণায় নতুন উদ্ভাবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগ–পোকা সহনশীল উন্নত জাত, জৈব বালাই নিয়ন্ত্রণ, ফেরোমন ভিত্তিক পোকা দমন এবং ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে স্মার্ট কৃষি—এসব বিষয় এখন বিশ্বের অনেক দেশে প্রয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এসব উদ্ভাবনের প্রয়োগ বাড়ানো গেলে রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমবে।

দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিকে মাঠপর্যায়ে সহজলভ্য করতে হবে। মোবাইল অ্যাপ, কৃষি–পরামর্শ প্ল্যাটফর্ম, ড্রোনভিত্তিক নজরদারি, পোকা শনাক্তকরণ সফটওয়্যার এবং মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, এসব প্রযুক্তি কৃষকের হাতে পৌঁছালে তারা ভুল কীটনাশক বা অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার এড়াতে পারবেন। উন্নত দেশগুলোতে ডেটাভিত্তিক কৃষির যে ঢেউ শুরু হয়েছে, বাংলাদেশও সেই ধারায় যুক্ত হতে পারে।

তৃতীয়ত, কৃষকের শিক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা জরুরি। প্রশিক্ষণ হতে হবে ধারাবাহিক, মাঠকেন্দ্রিক এবং ফলপ্রসূ। শুধু ব্রিফিং নয়, ডেমোনস্ট্রেশন প্লট, মডেল কৃষক, গ্রামভিত্তিক কৃষি স্কুল, এসব উদ্যোগ কৃষককে বাস্তবে শেখার সুযোগ দেবে। কৃষকের আস্থা বদলালেই পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হবে।

চতুর্থত, বাজারচেইনে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। নকল ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ না হলে বিষমুক্ত কৃষির লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে নিরাপদ কৃষিজ পণ্যের আলাদা মূল্য, সার্টিফিকেশন, লেবেলিং এবং সরাসরি ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা কৃষকদের বিকল্প উৎসাহ দিতে পারে। শহর ও গ্রামে নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা ইতিমধ্যেই বাড়ছে—এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে কৃষকও লাভবান হবেন।

পঞ্চমত, জনস্বাস্থ্যকে কৃষিনীতির কেন্দ্রে রাখতে হবে। খাদ্যে রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ শনাক্তকরণ, ল্যাব–টেস্ট বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার তদারকি এবং হাসপাতাল পর্যায়ে দূষণজনিত রোগের তথ্য সংগ্রহ, এগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি শুধু উৎপাদন নয়, মানুষের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সময় এসেছে কৃষিকে উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবেশের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবার। একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে অঞ্চলের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে। কৃষকের লাভ বাড়বে, ভোক্তা নিরাপদ খাদ্য পাবে, আর পুরো জাতি পাবে স্বাস্থ্যসম্মত ভবিষ্যৎ।