বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক:
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতের ভোরে যখন চারপাশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক আকস্মিক ও প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠল মাটি। সোমবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে অনুভূত এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে আতঙ্কে শয্যাত্যাগ করে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। রিখটার স্কেলে ৫.৪ মাত্রার এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্য।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা USGS ও EMSC-এর তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসামের ধিং শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যার ফলে কম্পনটি অত্যন্ত তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। আসামের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে কেন্দ্রস্থলের দূরত্ব ছিল মাত্র ৭৬ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব খুব বেশি না হলেও এর তীব্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা গৃহিনী শাহানা বেগম বলেন, “হঠাৎ মনে হলো কেউ আমার খাটটা ধরে জোরে ঝাঁকাচ্ছে। আলমারির পাল্লাগুলো শব্দ করে নড়ছিল। ভয়ে বাচ্চাদের নিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসি। সারা শরীর এখনো কাঁপছে।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন গুয়াহাটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অয়ন শর্মা। তিনি বলেন, “ভোররাতে গভীর ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ বিকট এক আওয়াজ আর ঘরের আসবাবপত্র নড়তে দেখে বুঝতে পারি ভূমিকম্প। সেকেন্ডের মধ্যে সবাই চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমরা সবাই কাঁপছিলাম, শীতে নয়—আতঙ্কে।”
এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী আসামের ধিং ও মরিগাঁও এলাকার কিছু পুরনো দালানে ফাটল ধরার খবর পাওয়া গেছে। সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, সিলেট ও আসাম সীমান্ত অঞ্চলটি ‘ফল্ট লাইন’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। আজকের এই কম্পনটি বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশেষজ্ঞরা পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ছোট ছোট ‘আফটার শক’-এর আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এক নজরে ভূমিকম্পের তথ্য:
| বিষয় | তথ্য |
| সময় | ভোর ৪:৪৭ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) |
| মাত্রা | ৫.৪ (রিখটার স্কেল) |
| উৎপত্তিস্থল | ধিং, আসাম (ভারত) |
| গভীরতা | ১০ কিলোমিটার |
| প্রভাবিত এলাকা | আসাম, সিলেট, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মেঘালয় |
ভোররাতের এই আতঙ্ক কাটিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও, মানুষের চোখে-মুখে এখনো সেই ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। প্রকৃতির এই আকস্মিক রুদ্ররূপ যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।










