বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটকের পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতার যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সাধারণত কোনো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে এবার ভূ-রাজনৈতিক এই বড় সংকটেও তেলের দাম বাড়েনি, বরং সামান্য কমেছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি: ‘অয়েলপ্রাইস ডটকম’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববারও তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে:
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণে মাদুরো সংকটের প্রভাব তেলের বাজারে পড়েনি:
১. ভেনেজুয়েলার সীমিত উৎপাদন: এক সময় ভেনেজুয়েলা শীর্ষ তেল উৎপাদক দেশ থাকলেও বর্তমানে তাদের দৈনিক উৎপাদন মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল বা তার কাছাকাছি, যা বৈশ্বিক চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ। ফলে দেশটির সরবরাহ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও বিশ্ববাজারে তার প্রভাব নগণ্য।
২. বাজারের অতিরিক্ত সরবরাহ (Oversupply): আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এবং অন্যান্য পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি। তেলের এই বিশাল মজুত যেকোনো আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় সক্ষম।
৩. দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার আশা: অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, মাদুরোর বিদায়ের পর ভেনেজুয়েলায় একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব সরকার এলে দেশটির তেল খাতের আধুনিকায়ন হবে। এতে ভবিষ্যতে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়বে, যা দাম কমাতে সাহায্য করবে।
৪. পরিবর্তিত বাজার ব্যবস্থা: আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা তাৎক্ষণিক হুজুগে শেয়ার বা তেল না কিনে দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ ও চাহিদার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং তেল খনিগুলোতে কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটে কি না, তার ওপর পরবর্তী বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।