১৩ কোটির সম্পদ, ঋণের বোঝা ৩০ কোটি:
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর দাখিলকৃত হলফনামা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ও-লেভেল সম্পন্ন করা এই নেতার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ কোটি কোটি টাকা হলেও, তাঁর ঋণের পরিমাণ সম্পদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।
পেশায় ব্যবসায়ী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী ২০২৫-২০২৬ কর বছরে নিজের বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১৯ লক্ষ ৬ হাজার টাকা। একই সময়ে তাঁর স্ত্রী আনিলা ইসলাম চৌধুরীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা।
সম্পদ: অর্জিত মূল্য বনাম বাজার মূল্য: হলফনামায় প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায়:
স্থাবর সম্পদ: তাঁর নামে ২১৪.৯১ শতক কৃষি জমি রয়েছে (অর্জনকালীন মূল্য ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৫০ টাকা)। এছাড়া চন্দনপুরা মৌজায় হেবামূলে প্রাপ্ত ভবন এবং কোতোয়ালী ও কক্সবাজারে দু’টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। প্রার্থী দাবি করেছেন, তাঁর স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা।
অস্থাবর সম্পদ: নগদ টাকা হিসেবে প্রার্থীর কাছে ২০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১৮ লক্ষ ৯১ হাজার ৯৯৯ টাকা রয়েছে।
স্বর্ণালঙ্কার: প্রার্থীর নিজের ২০ ভরি (উপহার প্রাপ্ত) এবং স্ত্রীর ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
বিশাল ঋণের ভার
হলফনামার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো তাঁর ঋণের পরিমাণ। ব্যক্তিগত ও ব্যাংক ঋণ মিলিয়ে মিশকাতুল চৌধুরীর ঋণের বোঝা পাহাড়সম:
ব্যক্তিগত ও ব্যাংক ঋণ (ইউসিবিএল): ১০ কোটি ৯৮ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা।
পারিবারিক ঋণ: তাঁর পিতার নামে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ১৯ কোটি ৩১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫১২ টাকার ঋণ রয়েছে (যা বর্তমানে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে আছে)। সব মিলিয়ে তাঁর ঋণের মোট পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
মামলার খতিয়ান: ‘ক্লিন চিট’ পাওয়ার দাবি
এক সময় হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা থাকলেও বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ফৌজদারি মামলা নেই।
তিনি জানিয়েছেন, কোতোয়ালী থানার একটি মামলা সরকার প্রত্যাহার করেছে এবং বাঁশখালী থানার অন্যান্য মামলাগুলোতে তিনি চূড়ান্ত রিপোর্টে অব্যাহতি পেয়েছেন।
“অর্জিত মূল্যের চেয়ে বাজার মূল্যের বিশাল ব্যবধান এবং পাহাড়সম ঋণের এই খতিয়ান এখন বাঁশখালীর ভোটারদের মুখে মুখে। নির্বাচনের মাঠে এই ঋণ এবং সম্পদের হিসাব প্রার্থীর ইমেজে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।”










