Home চা শিল্প রান্নাঘরে মরণব্যাধি: জাহাজ ভাঙা বর্জ্যে তৈরি হচ্ছে ক্যানসার ছড়ানো চুলা

রান্নাঘরে মরণব্যাধি: জাহাজ ভাঙা বর্জ্যে তৈরি হচ্ছে ক্যানসার ছড়ানো চুলা

কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্প থেকে সংগৃহীত বিষাক্ত ‘অ্যাসবেস্টস’ যুক্ত বোর্ড এখন পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। সস্তা এবং টেকসই হওয়ার অজুহাতে এই বোর্ড দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে রান্নার চুলা। অথচ অজান্তেই এই চুলার আগুনে পুড়ছে জনস্বাস্থ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বোর্ড থেকে নির্গত অদৃশ্য তন্তু বা ফাইবার মানুষের শরীরে প্রবেশ করে সৃষ্টি করছে ক্যানসারসহ নানাবিধ নিরাময় অযোগ্য রোগ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম  Inside Climate News-এর  B A N G L A D E S H T O X I C C O L O N I A L I S M I N T H E B A Y O F B E N G A L শীর্ষক প্রতিবেদনেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডগুলো থেকে বের হওয়া বর্জ্যের মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাসবেস্টস ইনসুলেশন বোর্ড। তাপ নিরোধক হওয়ায় সীতাকুণ্ড ও এর আশপাশের এলাকায় এই বোর্ড দিয়ে রান্নার চুলা তৈরির এক ভয়াবহ প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আগুনের তাপে এই বোর্ড থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম তন্তু বাতাসে ভেসে বেড়ায়, যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। রান্নার সময় গৃহিণী ও পাশে থাকা শিশুরা প্রতিনিয়ত এই বিষাক্ত কণা নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: কেন এটি এত ভয়াবহ?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাসবেস্টস একটি স্বীকৃত কার্সিনোজেন বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ জানান: “অ্যাসবেস্টসের সূক্ষ্ম কণা একবার ফুসফুসে প্রবেশ করলে তা আর বের হয় না। এটি ফুসফুসের টিস্যুতে ক্ষত সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ‘মেসোথেলিওমা’ নামক এক প্রকার বিরল ক্যানসার এবং ‘অ্যাসবেস্টোসিস’ রোগের মূল কারণ। রান্নার চুলার তাপে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি বছর এক লক্ষেরও বেশি মানুষ অ্যাসবেস্টস জনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এই কারণেই বিশ্বের অন্তত ৬০টিরও বেশি দেশে এর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ঝুঁকির মুখে গ্রামীণ জনপদ
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় এলাকার অনেক বাড়িতেই এই বিষাক্ত বোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা এই বোর্ডগুলো কেটে চুলা তৈরি করছেন বা পরিবহণ করছেন, তারা সরাসরি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। গ্রামীণ ছোট ও বদ্ধ রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এই বিষাক্ত কণাগুলো ঘরের ভেতরেই আটকা পড়ে থাকে, যা পরিবারের সবার জন্যই প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।
দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, সচেতনতার অভাবে সস্তা উপকরণ হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ছে। সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি না থাকায় এই বিষাক্ত পদার্থটি সহজেই খোলা বাজারে চলে আসছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই বোর্ডের বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং চুলা তৈরিতে এর প্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও ব্যাপক জনসচেতনতাই পারে এই ‘নীরব ঘাতক’ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে।

ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com