Home আন্তর্জাতিক অয়েল ট্যাংকার ‘অনার ২৫’ যেভাবে জলদস্যুদের কবলে

অয়েল ট্যাংকার ‘অনার ২৫’ যেভাবে জলদস্যুদের কবলে

ছবি এ আই
শিপিং ডেস্ক:
সামুদ্রিক নিরাপত্তার কড়াকড়িকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘অনার ২৫’ নামক তেলবাহী ট্যাংকারটি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দস্যুরা যেভাবে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ:
পরিকল্পিত আক্রমণ ও নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ
ঘটনাটি ঘটে গভীর সমুদ্রে যখন ট্যাংকারটি তার নির্ধারিত বাণিজ্যিক রুটে চলছিল। রাডারের নজরদারি এড়িয়ে দস্যুরা দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পিডবোটে করে জাহাজটির পিছু নেয়। তারা জাহাজের পেছনের অংশ দিয়ে ওঠার জন্য বিশেষ ধরনের মই ও হুক ব্যবহার করে। সশস্ত্র দস্যুরা জাহাজে ওঠার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মুখে পাহারারত কর্মীদের পরাস্ত করে।
এরপর তারা সরাসরি জাহাজের ‘ব্রিজ’ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে প্রবেশ করে নেভিগেশন সিস্টেম এবং রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ফলে জাহাজটি মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়। ক্রু সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট রুমে আটকে রেখে দস্যুরা জাহাজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
গতিপথ পরিবর্তন ও কৌশল
নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দস্যুরা জাহাজের এআইএস (AIS) বা অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম বন্ধ করে দেয়, যাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজটির অবস্থান ট্র্যাক করা না যায়। প্রাথমিক রুট পরিবর্তন করে তারা জাহাজটিকে উপকূলীয় অঞ্চলের লুকানো কোনো আস্তানার দিকে নিয়ে যায়। দস্যুরা জাহাজের ভেতরে থাকা জ্বালানি তেলের মজুত পরীক্ষা করে এবং জাহাজের মূল্যবান নথিপত্র কবজায় নেয়।
উদ্ধার তৎপরতা ও নিরাপত্তা শঙ্কা
জাহাজটি নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর কোস্টগার্ড ও নেভি যখন কোনো সংকেত পাচ্ছিল না, তখন বিষয়টি সবার নজরে আসে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহলরত ড্রোন ও নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ‘অনার ২৫’ এর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ যারা কেবল তেলের জন্য নয়, বরং বড় ধরনের মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে এই অপারেশন চালিয়েছে।
নাবিকদের জাতীয়তা ও সংখ্যা
জাহাজটিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ক্রু দল কাজ করছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তাদের পরিচয় নিম্নরূপ:
জাতীয়তা
সংখ্যা
পাকিস্তানি
১০ জন
ইন্দোনেশীয়
৪ জন (ক্যাপ্টেনসহ)
ভারতীয়
১ জন
শ্রীলঙ্কান
১ জন
মিয়ানমারের নাগরিক
১ জন
মোট
১৭ জন
বর্তমান পরিস্থিতি ও অবস্থান
মোগাদিশুগামী এই জাহাজটি বর্তমানে সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের জাফুন ও বান্দার বেইলা শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় নোঙর করে রাখা হয়েছে। জিম্মি ১৭ জন নাবিককে জাহাজের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জলদস্যুদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি, তবে তারা জাহাজটিতে আরও শক্তি বৃদ্ধি করেছে এবং নতুন করে ৫ জন সশস্ত্র সদস্য সেখানে যোগ দিয়েছে।
বিপজ্জনক এই পরিস্থিতিতে জিম্মি নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

আরও আপডেটের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।