Home বিনোদন বোয়াল-চিতলের রাজত্ব: জগন্নাথপুরের মাছ মেলায় সর্বোচ্চ দাম ৭৫ হাজার!

বোয়াল-চিতলের রাজত্ব: জগন্নাথপুরের মাছ মেলায় সর্বোচ্চ দাম ৭৫ হাজার!

সংগৃহীত ছবি
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ:
শীতের সকাল কিংবা পড়ন্ত বিকেল—সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর বাজারে তখন উৎসবের আমেজ। সারি সারি দোকান, আর তাতে থরে থরে সাজানো দেশি মাছের পসরা। কোনোটি বিশালকায় বোয়াল, কোনোটি রূপালি ঝিলিক দেওয়া চিতল বা আইড়। গত রবিবার মিরপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল নবম ‘মাছ মেলা’। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আর আধুনিক বাণিজ্যিক সফলতার এক মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে এই আয়োজন।
বড় মাছের রাজত্ব
মেলায় পা রাখতেই চোখে পড়ে দানবীয় সব মাছ। আয়োজক ও বিক্রেতারা জানান, মেলায় ছোট মাছের দেখা মেলা ভার। মেলা জুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে বিশাল সাইজের বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল ও পাঙাশ। এছাড়া নদী ও হাওরের বিরল প্রজাতির বাঘাইড়, গাংচিতল, কাইক্কা এবং আইড় মাছ ছিল মেলার প্রধান আকর্ষণ। শুধু চাষের মাছ নয়, সাগরের দুই-এক প্রজাতির মাছও মেলায় নজর কেড়েছে।
৭৫ হাজারি মাছ ও কোটি টাকার বাজার
মেলার কেনাবেচার চিত্র ছিল আকাশচুম্বী। ক্রেতাদের সমাগম ছিল নজরকাড়া। আকারভেদে মাছের দাম শুরু হয়েছিল কয়েক হাজার টাকা থেকে, আর মেলায় সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা দামের মাছও উঠতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, দিনব্যাপী এই মেলায় এক কোটি টাকারও বেশি মাছ কেনাবেচা হয়েছে।
প্রবাসীদের প্রাণের উৎসব
মিরপুর বাজারের এই মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের সরব উপস্থিতি। স্থানীয় ৩০টি গ্রামের মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীরাও এই মেলার জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষা করেন। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একজন বলেন, “লন্ডনেও এত বড় বড় মাছ পাওয়া যায় না। মূলত এই মেলার টানেই সপরিবারে মৌসুমে দেশে চলে আসি।” আরেক প্রবাসীর মতে, যান্ত্রিক জীবনে গ্রামীণ এই উৎসবগুলো একটু প্রশান্তি জোগায়।
ঐতিহ্যের নয় বছর
আজ থেকে ৯ বছর আগে স্থানীয় ব্যবসায়ী মরহুম ফয়সল মিয়ার হাত ধরে এই মেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এটি কেবল জগন্নাথপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, পার্শ্ববর্তী সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলাসহ দূরদূরান্তের সৌখিন মাছ শিকারি ও ক্রেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
গ্রামবাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি ও উৎসবের রূপ ফুটে ওঠে এই মাছের মেলায়। যেখানে কেনাবেচার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আনন্দ। মিরপুর বাজারের এই আয়োজন প্রমাণ করে, উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ ধরণের মেলা আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।