Home আন্তর্জাতিক মাদুরোকে এখনই মুক্তি দাও : যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চরম হুঁশিয়ারি

মাদুরোকে এখনই মুক্তি দাও : যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চরম হুঁশিয়ারি

ছবি এ আই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে আটক করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এবার সরাসরি রণংদেহী মূর্তিতে অবতীর্ণ হয়েছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন এই পদক্ষেপ “আন্তর্জাতিক ডাকাতবৃত্তি” ছাড়া আর কিছুই নয়।

“মাদুরোকে এখনই মুক্তি দাও” চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একজন সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের নগ্ন লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা চীন এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের “আধিপত্যবাদী মানসিকতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ” হিসেবে অভিহিত করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, ওয়াশিংটন বিশ শতকের পুরোনো “কাউবয় স্টাইল” রাজনীতিতে ফিরে গেছে, যা আধুনিক বিশ্বের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। চীন সাফ জানিয়েছে, শক্তি প্রয়োগ করে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা বদলে দেওয়ার চেষ্টা বেইজিং মেনে নেবে না।

জাতিসংঘে লড়াইয়ের প্রস্তুতি চীন ইতিমধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিংয়ের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা বিশ্বের অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে মার্কিন এই “নগ্ন আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে জোরালো প্রস্তাব আনবেন।

কৌশলগত স্বার্থে আঘাত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরো চীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। তাকে আটকের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে। চীন মনে করছে, এই অভিযান কেবল মাদুরোর বিরুদ্ধে নয়, বরং চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্বার্থের ওপর এক বড় আঘাত।

শেষ কথা চীনের এই কঠোর অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিকে এক নতুন মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মস্কো এবং বেইজিং এখন একজোট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কী ধরনের পাল্টা চাপ সৃষ্টি করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।