আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে ইরানের মাইন হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যেই এক চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। ওই অঞ্চলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা তিনটি বিশেষ মাইন-প্রতিরোধী রণতরীর মধ্যে দু’টিকেই প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার (৪,০০০ মাইল) দূরে মালয়েশিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (FT) এবং সামরিক বিষয়ক পোর্টাল দ্য ওয়ার জোন (TWZ) গত ১৮ তারিখ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
রণতরীর অবস্থান পরিবর্তন
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইউএসএস টুলসা (USS Tulsa) এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা (USS Santa Barbara) নামক দুটি অত্যাধুনিক জাহাজ এখন মালয়েশিয়ার পেনাং বন্দরে নোঙর করে আছে। তৃতীয় জাহাজটি, ইউএসএস কানকুন (USS Cancun), বর্তমানে ভারতের কেরালা উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জাহাজ-ট্র্যাকিং সূত্রে জানা গেছে।
এই জাহাজগুলো মূলত ‘টোড সোনার বয়’ এবং এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। গত বছর হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে এদের বাহরাইনে মোতায়েন করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাপ্তরিক ব্যাখ্যা
রণতরী সরানোর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে মার্কিন পঞ্চম ফ্লিটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি একটি নিয়মিত “লজিস্টিক সাপোর্ট ডকিং” বা রসদ সরবরাহের প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই সফর।” তবে মাইন হামলার হুমকির মুখে কেন এই রণতরীগুলো সরানো হলো, সে বিষয়ে কোনো সরাসরি উত্তর দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
ট্রাম্পের ‘হরমুজ জোট’ ও মিত্রদের ওপর চাপ
রণতরীগুলো এমন এক সময় সরানো হলো যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।
১৪ মার্চ: ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ‘হরমুজ জোট’ গঠনের কথা বলেন।
১৮ মার্চ: তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো যারা এই অঞ্চলের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন নিজেদেরই নিতে হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সামরিক বিশ্লেষকরা এই রহস্যময় স্থানান্তরের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ দেখছেন: ১. ইরানি হামলার ভয়: দ্য ওয়ার জোন-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাহরাইনের ঘাঁটিটি ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার নাগালে থাকায় মার্কিন নৌবাহিনী ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলো দূরে সরিয়ে নিয়েছে। ২. জাহাজের সীমাবদ্ধতা: নিরাপত্তা গবেষক ইথান কর্নেলের মতে, এই বিশেষ জাহাজগুলো (Coastal Combatant Ships) সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে বা অত্যন্ত ঘোলাটে পানিতে মাইন পরিষ্কারের জন্য ততটা কার্যকর নয়। ইরানের অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বা সুইসাইড বোটের সামনে এগুলো অত্যন্ত দুর্বল। ৩. রক্ষণাবেক্ষণ: কেউ কেউ মনে করছেন, জাহাজগুলো দীর্ঘ কাজের পর বড় ধরনের কোনো মেরামতের জন্য পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।