তসলিম আহমেদ, ক্যালগেরি ( কানাডা): জাস্টিন ট্রুডোর দীর্ঘ এক দশকের শাসনের অবসানের পর কানাডার রাজনীতিতে এখন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। লিবারেল পার্টি অব কানাডার নেতৃত্বে এসেছেন বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও ব্যাংক অব কানাডার সাবেক গভর্নর মার্ক কার্নি। ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি কানাডাকে একটি “ইকোনমিক সুপারপাওয়ার” হিসেবে গড়ে তোলার মিশনে নেমেছেন।
সংকট মোচনে ‘টেকনোক্র্যাট’ নেতৃত্ব
২০২৪ সালের শেষের দিকে কানাডা যখন উচ্চ আবাসন ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপে পিষ্ট হচ্ছিল, তখন লিবারেল পার্টি একজন অভিজ্ঞ অর্থনৈতিক অভিভাবকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর মার্ক কার্নিকে দলে ভেজানো ছিল একটি মাস্টারস্ট্রোক।
হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ডের এই প্রাক্তনী তাঁর দীর্ঘ ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেশ কিছু কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তাঁর মূল লক্ষ্য হলো কানাডার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং সুদের হারের ভারসাম্য বজায় রাখা।
নীতিগত পরিবর্তন ও বাজার প্রতিক্রিয়া: প্রধানমন্ত্রী কার্নি দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর ‘প্র্যাগম্যাটিক ইকোনমিক পলিসি’ বা বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
আবাসন বিনিয়োগ: তিনি আবাসন সংকট কাটাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি বিশাল তহবিল গঠন করেছেন।
কর সংস্কার: কর্পোরেট কর কাঠামোতে পরিবর্তন এনে তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
সবুজ অর্থায়ন (Green Finance): কার্নি দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কানাডার জ্বালানি খাতকে আরও পরিবেশবান্ধব এবং লাভজনক করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।
একটি ঐতিহাসিক তুলনামূলক চিত্র
মার্ক কার্নির নেতৃত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা তাঁর পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়:
বৈশিষ্ট্য |
ব্যাংক অব কানাডা (২০০৮-২০১৩) |
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (২০১৩-২০২০) |
কানাডার প্রধানমন্ত্রী (২০২৫-বর্তমান) |
মূল ভূমিকা |
বৈশ্বিক মন্দা থেকে সুরক্ষা |
ব্রেক্সিট পরবর্তী স্থিতিশীলতা |
কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার |
কৌশল |
ফরোয়ার্ড গাইডেন্স |
লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট |
ফিসকাল স্টিমুলাস ও কর্মসংস্থান |
ফলাফল |
জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততম পুনরুদ্ধার |
আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা |
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি |









