বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেট-২ (ওসমানীনগর–বিশ্বনাথ) আসনে বহুল আলোচিত মা-ছেলের সম্ভাব্য নির্বাচনী লড়াই আপাতত থমকে গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াসের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার পুত্র আবরার ইলিয়াসের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এই সিদ্ধান্ত জানান।
বাতিলের কারণ ও বর্তমান চিত্র
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবরার ইলিয়াস ও মোহাম্মদ আব্দুস শহীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
সিলেট-২ আসনে জমা পড়া ৯টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৬টি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন:
- তাহসিনা রুশদীর লুনা (বিএনপি)
- অধ্যাপক আব্দুল হান্নান (জামায়াতে ইসলামী)
- মোহাম্মদ মুনতাসির আলী (খেলাফত মজলিস)
- মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (জাতীয় পার্টি)
- মাওলানা আমির উদ্দিন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)
- মো. মুজিবুল হক (গণফোরাম)
এছাড়া, যাচাই-বাছাইয়ে অনুপস্থিত থাকায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জামান আহমদ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক কৌশল ও হলফনামার তথ্য
লুনা ও আবরার ইলিয়াসের একই আসন থেকে মনোনয়ন দাখিলের পেছনে ছিল মূলত রাজনৈতিক কৌশল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আইনি জটিলতায় লুনার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের মোকাব্বির খান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবার ‘বিকল্প প্রার্থী’ হিসেবে ছেলেকে মাঠে নামিয়েছিলেন লুনা।
তাহসিনা রুশদীর লুনার হলফনামা অনুযায়ী, তার কাছে নগদ ৪ লাখ ২০ হাজার ৪৬৪ টাকা রয়েছে। এছাড়া তিনি তার ছেলের কাছ থেকে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ২০১২ সালে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এই পরিবারটি রাজনৈতিকভাবে আলোচিত ও সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি আপিল নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সব ঠিক থাকলে ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।










