Home আন্তর্জাতিক মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতি সংকট চরমে 

মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতি সংকট চরমে 

ছবি সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  মিয়ানমারে সামরিক জান্তার অব্যাহত অভিযান এবং সংঘাতের ফলে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘মিয়ানমার উইনেস’-এর একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির বেসামরিক নাগরিকদের জন্য এখন নিরাপদ কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই বললেই চলে।

প্রতিবেদনের মূল বিষয়সমূহ:

‘ইন্টারনালি ডিসপ্লেসড: হোয়্যার ডু উই গো?’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংঘাতের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎস (Open-source) থেকে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি: প্রতিবেদনে মোট ২৮৪টি ঘটনার বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বেসামরিক মানুষ সংঘাত ও সামরিক অভিযানের কারণে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু: ঘরছাড়া মানুষরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানেও তারা নিরাপদ নন। বাস্তুচ্যুতদের ক্যাম্প, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত স্কুল এবং মঠগুলোতেও সামরিক হামলার তথ্য মিলেছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল: মিয়ানমারের ১৫টি রাজ্য ও অঞ্চলের মধ্যে ১২টিতেই বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মাগওয়ে, সাগাইং এবং বাগো অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ও সামরিক অভিযান রেকর্ড করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা:

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ এবং জুন মাসে সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে বাস্তুচ্যুতির হারও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ইয়াঙ্গুন বা নেপিদোর মতো অঞ্চলগুলোতে বাস্তুচ্যুতির খবর কম পাওয়া গেলেও এর অর্থ এই নয় যে সেখানে ঝুঁকি নেই; বরং সেসব অঞ্চলে সামরিক জান্তার কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকার কারণে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মিয়ানমার উইনেস উল্লেখ করেছে যে, আগে ধারণা করা হতো সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকা দুর্গম অঞ্চলগুলো নিরাপদ। কিন্তু জান্তা সরকারের ক্রমাগত বিমান হামলা এবং স্থল অভিযানের কারণে এখন সেই ধারণাও বদলে যাচ্ছে।

তথ্য যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ:

মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং পর্যাপ্ত ফুটেজ বা প্রমাণের অভাবে অনেক ঘটনার সঠিক সময় ও স্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণাদি ইঙ্গিত দেয় যে, মিয়ানমারের ভেতরে এখন এমন কোনো স্থান নেই যা বেসামরিক মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

সংস্থাটির মতে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে শুরু হওয়া এই সংকট কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, বরং দিন দিন তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।