Home আন্তর্জাতিক ধ্বংসের আকাশ: মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র কি? কাদের দখলে এই শক্তি?

ধ্বংসের আকাশ: মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র কি? কাদের দখলে এই শক্তি?

বিজনেসটুডে২৪ ডেস্ক:

মিসাইল কী? মিসাইল হলো স্বচালিত বা গাইডেড রকেট চালিত এক প্রকার যুদ্ধাস্ত্র, যা সাধারণত কোনো বিস্ফোরক বা ধ্বংসাত্মক পেলোড বহন করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। রকেট এবং মিসাইলের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো—রকেট একবার নিক্ষেপের পর দিক পরিবর্তন করতে পারে না, কিন্তু মিসাইল তার গাইডেন্স বা দিকনির্দেশনা ব্যবস্থার মাধ্যমে গতিপথ পরিবর্তন করে একেবারে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

মিসাইল কীভাবে কাজ করে? একটি আধুনিক মিসাইল মূলত পাঁচটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত: টার্গেটিং, গাইডেন্স সিস্টেম, ফ্লাইট কন্ট্রোল, প্রপালশন বা ইঞ্জিন এবং ওয়ারহেড বা বিস্ফোরক। উৎক্ষেপণের পর ইনটার্শিয়াল গাইডেন্স, জিপিএস (GPS), রাডার, ইনফ্রারেড বা লেজার প্রযুক্তির সমন্বয়ে মিসাইলটি নিজের অবস্থান এবং লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান ক্রমাগত যাচাই করে। লক্ষ্যবস্তু স্থির বা চলমান যাই হোক না কেন, এটি বাতাসের চাপ বা প্রতিকূলতা কাটিয়ে নিজের গতিপথ সংশোধন করে চূড়ান্ত আঘাত হানে।

ইতিহাস ও বিবর্তন মিসাইলের আদি রূপ দেখা যায় প্রাচীন চীনে ‘ফায়ার অ্যারো’ বা অগ্নি-তীর হিসেবে। তবে আধুনিক মিসাইল প্রযুক্তির প্রকৃত বিকাশ ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। জার্মান বাহিনী ভ-১ (V-1) এবং ভ-২ (V-2) রকেট তৈরির মাধ্যমে দূরপাল্লার গাইডেড মিসাইলের পথ প্রশস্ত করে। এরপর স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে আন্তঃমহাদেশীয় বা ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে।

কোন কোন দেশের কাছে আছে? বিশ্বের অনেক দেশের সামরিক বাহিনীই এখন মিসাইল ব্যবহার করে। তবে প্রযুক্তির সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল, উত্তর কোরিয়া এবং ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মিসাইল শক্তির অধিকারী। এ ছাড়াও অনেক দেশ তাদের প্রতিরক্ষা প্রয়োজনে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে।

নিজস্ব তৈরি না ক্রয়? মিসাইল শক্তির অধিকারী দেশগুলো সাধারণত দুইভাবে তাদের অস্ত্রের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে: ১. নিজস্ব উৎপাদন: অনেক দেশ, বিশেষ করে বৃহৎ সামরিক শক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রগুলো (যেমন—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন) নিজেরা অত্যাধুনিক গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে নিজস্ব প্রযুক্তিতে মিসাইল তৈরি করে। আবার অনেক দেশ ‘ট্রান্সফার অফ টেকনোলজি’ (ToT) চুক্তির মাধ্যমে অন্য দেশের সহায়তা নিয়ে নিজেদের দেশেও মিসাইল উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করছে। ২. ক্রয় করা: অনেক দেশ আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তৈরি মিসাইল ক্রয় করে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখে। বেশিরভাগ দেশ যারা নিজস্ব উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে না, তারা বন্ধুপ্রতিম বা সরবরাহকারী দেশ থেকে এগুলো সংগ্রহ করে।

মিসাইল প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, যা আধুনিক যুদ্ধের কৌশল ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

নিয়মিত এমন তথ্য পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মন্তব্য জানান।