Home আগরতলা ত্রিপুরা: পাহাড়ের দখল নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ত্রিমুখী লড়াই

ত্রিপুরা: পাহাড়ের দখল নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ত্রিমুখী লড়াই

রাকেশ দেবনাথ, আগরতলা: ত্রিপুরা রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত স্বশাসিত জেলা পরিষদের (TTAADC) বর্তমান মেয়াদ আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬-এ শেষ হতে যাচ্ছে। মার্চ-এপ্রিলের এই সম্ভাব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমতলের চেয়ে এখন পাহাড়ের রাজনীতি অনেক বেশি উত্তপ্ত।
 রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান অবস্থান
তিপরা মোথা পার্টি (TMP): বর্তমান ক্ষমতাসীন দল হিসেবে তারা ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’ এবং জনজাতি স্বার্থ রক্ষার ইস্যুকে সামনে রেখে এগোচ্ছে। তবে সরকারে যোগ দেওয়ার পর কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়ার (Anti-incumbency) মুখে পড়তে হতে পারে তাদের।
বিজেপি (BJP): কেন্দ্রে ও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকায় তারা এবার এডিসি-তেও পূর্ণ শক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, পাহাড়ের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য বিজেপির জয় অপরিহার্য। তারা তিপরা মোথার সাথে জোটে থাকলেও অনেক আসনে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই বা একক আধিপত্যের কৌশল নিতে পারে।
বামফ্রন্ট (Left Front): গত নির্বাচনে খাতা খুলতে না পারা বামফ্রন্ট এবার সম্পূর্ণ নতুন কৌশলে মাঠে নেমেছে। ২৮টি আসনের জন্য তারা ইতিমধ্যেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ২৫ জনই নতুন মুখ। অভিজ্ঞতার চেয়ে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ওপর ভরসা করে তারা হারানো জনভিত্তি ফিরে পেতে মরিয়া।
আইপিএফটি (IPFT): জোটে থাকলেও তারা ২৮টি আসনেই লড়াই করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। দলটির দাবি, তাদের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক এখনো অটুট।
কংগ্রেস: সমতলের মতো পাহাড়েও তারা একক শক্তিতে লড়াইয়ের বার্তা দিচ্ছে, যদিও বামফ্রন্টের সাথে আসন সমঝোতা নিয়ে শেষ মুহূর্তের জল্পনা রয়েই গেছে।
২০২১ সালের নির্বাচন ছিল ত্রিপুরার পাহাড়ী রাজনীতির ইতিহাসের এক বড় মোড়। দীর্ঘ ১৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজন্য পরিবারের সন্তান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মার নেতৃত্বাধীন ‘তিপরা মোথা’ একক শক্তিতে ক্ষমতায় আসে।
দল/জোট প্রাপ্ত আসন (২৮টির মধ্যে) প্রাপ্ত ভোট (%)
তিপরা মোথা (TMP + INPT) ১৮ (১৬+২) ৪৬.৭৩%
বিজেপি (NDA) ১৮.৭২%
বামফ্রন্ট (LF) ১২.৪৬%
নির্দল ৬.৯৭%
কংগ্রেস ২.২৪%
দ্রষ্টব্য: ২০২১-এ বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে বড় ধস নেমেছিল, যার সুবিধা সরাসরি তিপরা মোথা পেয়েছিল।
 ২০২৬ নির্বাচনের প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ
  • গ্রাম কমিটি (Village Council) নির্বাচন: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবার এডিসি নির্বাচনের সাথেই ভিলেজ কাউন্সিল ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তৃণমূল স্তরে লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে।
  • আদিবাসী সেন্টিমেন্ট বনাম উন্নয়ন: তিপরা মোথা তাদের সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে বিজেপি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি দিচ্ছে।
  • বামফ্রন্টের নতুন মুখ: ভোটাররা বামফ্রন্টের এই তরুণ প্রার্থীদের কতটা গ্রহণ করবেন, তার ওপর নির্ভর করছে পাহাড়ের আগামীর রাজনীতির সমীকরণ।
২০২১ সালে যেখানে লড়াই ছিল মূলত তিপরা মোথা বনাম বাকিরা, ২০২৬ সালে সেখানে লড়াই হতে যাচ্ছে বহুমুখী। বামফ্রন্টের নতুন নেতৃত্ব এবং শাসক দলগুলোর জোট সমীকরণই নির্ধারণ করবে আগামী ৫ বছর খুমুলউঙ-এর (এডিসি সদর দপ্তর) মসনদে কারা বসবেন।