মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা তুঙ্গে, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের গুঞ্জন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় পুত্র ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনেই।
শোনা যাচ্ছে, ইরানের শক্তিশালী ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ অত্যন্ত গোপনীয় একটি বৈঠকের মাধ্যমে মোজতবাকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে, যদিও তেহরান প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়াল থেকে দেশের শাসনব্যবস্থা এবং নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন মোজতবা। তবে তাঁর এই মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিতর্ক।
ইরান মূলত ১৯৫৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের ঘোর বিরোধী হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে। এখন খামেনেইয়ের পর তাঁর পুত্রই ক্ষমতার শীর্ষে আসায় দেশটির সেই ঘোষিত নীতি এবং নৈতিক ভিত্তি বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই ক্ষমতা হস্তান্তরের পেছনে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ বা আইআরজিসি-র (IRGC) সরাসরি সমর্থন ও চাপের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে আইআরজিসি-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা মোজতবাকে সেনার পছন্দের প্রার্থী হিসেবেই দেখা হয়। মূলত সামরিক বাহিনীর এই নিরঙ্কুশ সমর্থনই তাঁকে উত্তরাধিকারের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে দিয়েছে।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের এই সন্ধিক্ষণে মোজতবা খামেনেইয়ের হাতে ক্ষমতা আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতাই হলেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং দেশের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশক। ফলে তাঁর নেতৃত্বাধীন ইরান আগামী দিনে পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে কেমন আচরণ করবে কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের কৌশলগত অবস্থান কী হবে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির এমন সব গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিয়মিত পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।