মাহবুবুল হক, মাস্কাট:
মরুর দেশ ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমান’। ওমান সরকার কর্তৃক অনুমোদিত একমাত্র এই সামাজিক সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবে মো. সিরাজুল হক কেবল একজন নেতা নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের সারথি।
নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক সাফল্য
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওমানে বসবাসরত সিরাজুল হক তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওমান সরকারের পক্ষ থেকে ২০ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির স্থায়ী অনুমোদন লাভ করা। এটি ওমানে বাংলাদেশি কোনো সংগঠনের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তাঁর অধীনে বর্তমানে মাস্কাট ছাড়িয়ে সালালাহ, সোহারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ক্লাবের শাখা এবং আঞ্চলিক উইংগুলো (যেমন- নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম উইং) অত্যন্ত সক্রিয়।
সিআইপি মর্যাদা ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান
মো. সিরাজুল হক একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একাধিকবার সিআইপি (CIP) মর্যাদা পেয়েছেন। ওমানে তাঁর ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি তিনি সবসময় প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করেন। তাঁর নেতৃত্বে ওমান সোশ্যাল ক্লাব বর্তমানে ‘সে নো টু হুন্ডি’ (Say No to Hundi) শীর্ষক একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচার অভিযান পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সেবার হাত যখন সীমানা ছাড়িয়ে
সিরাজুল হকের মানবিক কর্মকাণ্ড তাঁকে সাধারণ প্রবাসীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু মানবিক উদ্যোগ হলো:
অসুস্থ প্রবাসীদের সহায়তা: ওমানের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসহায় বাংলাদেশিদের নিয়মিত খোঁজ নেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান।
মৃতদেহ দেশে পাঠানো: কফিল বা স্পন্সরের জটিলতায় আটকে থাকা মৃত প্রবাসীদের মরদেহ নিজ খরচে বা ক্লাবের তহবিলে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
আইনি সহায়তা: ওমানের শ্রম আইন সম্পর্কে প্রবাসীদের সচেতন করতে নিয়মিত সেমিনার আয়োজন এবং আইনি জটিলতায় পড়া কর্মীদের দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ প্রদান।
আধুনিকায়ন ও পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্তি
সিরাজুল হক বিশ্বাস করেন, প্রবাসীদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে দক্ষ পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা জরুরি। এই লক্ষ্যেই তাঁর বিশেষ উদ্যোগে ‘ইঞ্জিনিয়ার্স উইং’ ওমান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া ক্লাবের সদস্যদের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ড প্রবর্তন এবং অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে তিনি ক্লাবকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করিয়েছেন।
সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য
ওমানের মাটিতে বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে তিনি আপসহীন। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের পাশাপাশি ‘চেয়ারম্যান গোল্ড কাপ’ ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তিনি প্রবাসী যুবকদের সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করে আসছেন।
মো. সিরাজুল হক ওমানের বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবকে কেবল একটি ক্লাবে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং এটিকে প্রবাসীদের জন্য একটি মিনি-বাংলাদেশ এবং বিপদের আশ্রয়ে পরিণত করেছেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ওমানে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হচ্ছে।
“আমরা কেবল প্রবাসে কাজ করতেই আসিনি, আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সম্মানকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা।” — মো. সিরাজুল হক (সিআইপি)










