আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সামরিক জান্তা গত বৃহস্পতিবার থেকে রাখাইন রাজ্যের পন্নাগিউন ও থানদ্বে শহরের বেশ কয়েকটি বেসামরিক এলাকায় অন্ততঃ এক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ঙাপালি সৈকত এলাকাও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। পন্নাগিউনের কালাদান নদীর তীরবর্তী ইয়ো এনগু এলাকায় জান্তার দুটি ফাইটার জেটের মাধ্যমে অন্তত চারটি ৫০০ পাউন্ডের বোমা ফেলা হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম নারিনজারা নিউজ জানিয়েছে।
আরাকান আর্মি (এএ) সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে থানদ্বে শহরের আবাসিক এলাকায় সামরিক বিমানের হামলায় এক গর্ভবতী নারীসহ তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এ সময় দুটি শিশুসহ অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কিছু বসতবাড়ি, রেস্তোরাঁ, বৌদ্ধ বিহার এবং একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার ঙাপালি সৈকতের কাছে হামলা চালিয়ে একটি মন্দির ও হোটেল ধ্বংস করা হয়েছে, যেখানে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শিশুসহ আরও ছয়জন আহত হন।
পরপর এসব বিমান হামলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। থানদ্বে এলাকার এক নারী বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা সার্বক্ষণিক আকাশের দিকে তাকিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সাধ্য না থাকায় অনেকেই ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে পারছেন না। আরাকান আর্মি জানিয়েছে, রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টিই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সামরিক জান্তা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এসব নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে।