বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও: সদর উপজেলার রুহিয়া এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) খাদ্যগুদামে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে গুদাম থেকে রেকর্ডবহির্ভূত ৩ হাজার ৪৫০ কেজি (৩ মেট্রিক টনের বেশি) চাল জব্দ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চিকন চালের পরিবর্তে নিম্নমানের মোটা চাল সংগ্রহের প্রমাণ পাওয়ায় গুদামের ১৪টি খামাল সিলগালা করা হয়েছে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও জব্দকৃত চাল: মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুদকের ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজীর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। দুদক সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমন মৌসুমে সরকার কেবল চিকন চাল সংগ্রহের নির্দেশনা দিলেও রুহিয়া গুদামে মোটা ও নিম্নমানের চাল গ্রহণ করা হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে গুদামের ৭ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ৩ হাজার ৪৫০ কেজি চাল পাওয়া যায়, যার কোনো দাপ্তরিক রেকর্ড বা হিসাব গুদামে ছিল না। এই বিপুল পরিমাণ চালের মালিকানা বা উৎস সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উক্ত চাল ইনভেন্টরি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত ও নমুনা সংগ্রহ: দুদক টিম গুদামের বিভিন্ন খামাল থেকে সংগৃহীত চালের মান যাচাইয়ের জন্য ১৪টি খামাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা সিলগালা করে দিয়েছে। এই নমুনাগুলো ল্যাবে পাঠিয়ে সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী চাল সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
উত্তেজনা ও জনরোষ: অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কয়েকজন মিল মালিক ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় কৃষক রমজান ও আপেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ধান বিক্রি করতে গেলে নানা অজুহাতে আমাদের ঘোরানো হয় এবং চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথচ সরকারি গুদামেই হিসাবহীন বিপুল পরিমাণ চাল পাওয়া যাচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজী জানান, “প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা শেষে আমরা বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেব।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুহিয়া গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিপ্রা শর্মার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক শাহ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরকারি চাল মজুত বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”










