Home Third Lead বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ‘স্পেস রোবটিক্স ল্যাব’

বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ‘স্পেস রোবটিক্স ল্যাব’

পর্ব-২
নাসা থেকে মহাকাশ স্টেশন
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) ও মহাকাশ রোবটিক্সে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এখন আর স্বপ্ন নয়, বরং এক উজ্জ্বল বাস্তবতা। এই অগ্রযাত্রার নেতৃত্বে রয়েছে STEMX365, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যার প্রতিষ্ঠাতা ও এমআইটি (MIT)-র বিজ্ঞানী মিজানুল এইচ চৌধুরী এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চুয়েট, রুয়েট ও ইউএসটিসি-র সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
স্পেস রোবটিক্সে বাংলাদেশের সাফল্য
মিজানুল এইচ চৌধুরী ও  প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম-এর এক নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যেই তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। JAXA (জাপানিজ অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি)-এর Kibo Roboto Programming Challenge (Kibo RPC)-এ অংশ নিয়ে তারা আন্তর্জাতিকভাবে ২য় ও ৫ম স্থান অর্জন করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রামিং, Astrobee রোবট সিমুলেশন, ইমেজ প্রসেসিং, AR/VR, এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছে।
ISS-এ গবেষণা: এক অনন্য সুযোগ
শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS)-এ অবস্থানরত নভোচারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করে নাসার Astrobee রোবটের জন্য অ্যালগরিদম ডিজাইন করার সুযোগ পাচ্ছে। এটি তাদের মহাকাশ রোবটিক্সে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের এবং বাস্তব বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অবদান রাখার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম।
এছাড়াও, SSAF প্রোগ্রামের অধীনে এশীয় ভেষজ উদ্ভিদের বীজ গবেষণার জন্য ISS-এ পাঠানো হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরিবেশে এই গাছগুলোর বৃদ্ধি ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। STEMX365 ইতিমধ্যে ধনেপাতা (ধনিয়া) ISS-এ পাঠিয়েছে এবং AI-ভিত্তিক গাইরেন্স, নেভিগেশন ও কন্ট্রোল (GNC) গবেষণার জন্য Astrobee রোবট পরিচালনা করেছে।
২০৩০ সালে ISS-এর বিদায় ও নতুন সম্ভাবনা
২০৩০ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে ডিঅরবিট করে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি দূরবর্তী এলাকায় ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এই ISS-পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে মহাকাশ খাতের বাণিজ্যিকীকরণ ও সবার জন্য প্রবেশগম্যতা বাড়ছে।
মিজানুল এইচ চৌধুরী ও প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, এই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে বিশ্ব মহাকাশ ইকোসিস্টেমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে শিক্ষার্থীদের STEM এবং STEAM কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযথভাবে শিক্ষিত ও প্রস্তুত করা জরুরি।
স্পেস রোবটিক্স ল্যাব: ভবিষ্যতের ঠিকানা
স্পেস রোবটিক্স ল্যাব শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভার্চুয়াল স্পেসক্রাফট ডিজাইন ও পরিচালনা করার সুযোগ দেবে। এই ইমারসিভ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তারা মহাকাশ আবাসন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ অনুসন্ধানের অনুশীলন করতে পারবে।
এই ধরনের প্রকল্পগুলি মহাকাশ অনুসন্ধানের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের গভীর উপলব্ধি অর্জনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অনুপ্রাণিত করবে।
একটি সমন্বিত প্রয়াসের আহ্বান
যদিও বাংলাদেশে STEM-সংক্রান্ত অনেক কার্যক্রম রয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিক সরকারি সহায়তা না থাকায় সেগুলোর প্রভাব সীমিত থাকে। মিজানুল এইচ চৌধুরী ও প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এই শূন্যস্থান পূরণে STEMX365-এর নেতৃত্বের সক্ষমতা তুলে ধরেছেন।
তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বিশ্ব মহাকাশ কমিউনিটিতে অবদান রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও অনুপ্রেরণা অর্জনে STEMX365 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন সময় এসেছে দ্রুত উদ্যমী হওয়া, একসাথে কাজ করা এবং সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার, যাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মহাকাশ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তোলা যায়।