রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নিপীড়নকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত গণহত্যা মামলার প্রকাশ্য শুনানি সোমবার থেকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) শুরু হয়েছে। গাম্বিয়ার করা এই মামলাটি এখন এক ঐতিহাসিক পর্যায়ে উপনীত হলো।
নেদারল্যান্ডসের হেগ-এ অবস্থিত পিস প্যালেসে এই শুনানি শুরু হয়। কয়েক বছরের প্রাথমিক আইনি জটিলতা কাটিয়ে মামলাটি এখন ‘মেরিট ফেজ’ বা মূল বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আগামী তিন সপ্তাহ ধরে আইসিজে-র বিচারকগণ উভয় পক্ষের যুক্তি শুনবেন, সাক্ষী ও বিশেষজ্ঞদের জেরা করবেন এবং মিয়ানমার ‘গণহত্যা কনভেনশন’ লঙ্ঘন করেছে কি না তা খতিয়ে দেখবেন।
শুনানির মূল বিষয়সমূহ:
গাম্বিয়ার বক্তব্য: গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী দাউদা জ্যালো আদালতে বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো “কল্পনাতীত ও নৃশংসতম মানবাধিকার লঙ্ঘনের” বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেই তারা এই মামলা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কেবল আইনি মারপ্যাঁচ নয়, বরং একদল রক্ত-মাংসের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর ফলে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘ সেই সময় একে “জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ” হিসেবে অভিহিত করেছিল।
পূর্ববর্তী পদক্ষেপ: ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় এবং গণহত্যার প্রমাণ সংরক্ষণে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছিলেন। ২০২২ সালে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তি খারিজ করে আদালত মামলার বিচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও গুরুত্ব
গাম্বিয়ার প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দাউদা জ্যালো সতর্ক করে বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ বারবার ঘটার ঝুঁকি থাকে।
মিয়ানমার এই সপ্তাহের শেষের দিকে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, আইসিজে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করে এবং এর রায় মানা বাধ্যতামূলক, যদিও বিচার শেষে চূড়ান্ত রায়ে পৌঁছাতে আরও কয়েক মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।