Home আকাশ পথ শেকড়ের টানে সরাসরি আকাশপথ; মন্ত্রীর ঘোষণায় প্রবাসীদের আনন্দের জোয়ার

শেকড়ের টানে সরাসরি আকাশপথ; মন্ত্রীর ঘোষণায় প্রবাসীদের আনন্দের জোয়ার

লন্ডনের চিঠি 

আজহার মুনিম শাফিন, লন্ডন: লন্ডনের সেন্ট্রাল থেকে শুরু করে ওল্ডহ্যাম, বার্মিংহাম কিংবা ম্যানচেস্টারের কারি ভিলেজ—সবখানেই গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটিই খবর। ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে পুনরায় বিমান চলাচল শুরুর ঘোষণা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এই আশ্বাসের বার্তা আটলান্টিকের এপাড়ে পৌঁছাতেই লন্ডনের সিলেটি কমিউনিটিতে বইছে উৎসবের আমেজ।

ম্যানচেস্টার ও উত্তর ইংল্যান্ডে বসবাসরত কয়েক লাখ সিলেটি বাংলাদেশির জন্য এই রুটটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং এটি ছিল নাড়ির টানে দেশে ফেরার সংক্ষিপ্ততম পথ। হজ মৌসুমের কারণ দেখিয়ে ফ্লাইটটি স্থগিত করায় প্রবাসীরা গত কয়েক মাস ধরে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। বয়স্ক বাবা-মা কিংবা অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হিথ্রো হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া ছিল এক দুঃসহ যন্ত্রণা। লন্ডনের বিভিন্ন আড্ডায় ও কমিউনিটি সেন্টারে প্রবাসীরা এই রুটটি স্থায়ীভাবে সচল রাখার জন্য সরকারের কাছে বারবার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো এই ফ্লাইট চালুর দাবিতে ছিল সোচ্চার। স্মারকলিপি প্রদান থেকে শুরু করে অনলাইন ক্যাম্পেইন—সব মাধ্যমেই তারা তুলে ধরেছিলেন তাদের সমস্যার কথা। প্রবাসীদের যুক্তি ছিল পরিষ্কার: এই রুটটি বিমানের জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি এটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তৃতীয় প্রজন্মের সাথে বাংলাদেশের যোগসূত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণাটি প্রবাসীদের সেই সুদীর্ঘ আন্দোলন ও আবেগেরই এক বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঘোষণা আসলেও এখন প্রবাসীদের দৃষ্টি হজের পরবর্তী শিডিউলের দিকে। লন্ডনের অলগেট এলাকার কমিউনিটি নেতা সালেহ আহমদ বলেন, “এই ঘোষণা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির। তবে আমাদের দাবি থাকবে এটি যেন আর কোনো অজুহাতে বন্ধ না করা হয়। আমরা চাই নিরাপদ এবং নিয়মিত ফ্লাইট।”

অনেকে আবার টিকিটের উচ্চমূল্য ও সেবার মান নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের কার্যক্রম যেমন প্রাণ ফিরে পাবে, তেমনি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর উৎসাহও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেকড়ের টান আর যান্ত্রিক জীবনের দূরত্বের মাঝে সেতু হয়ে দাঁড়ায় এই সরাসরি আকাশপথ। মন্ত্রীর কথায় প্রবাসীদের মনে যে আশার প্রদীপ জ্বলেছে, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। সিলেটের মানুষ এখন কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় হজের সমাপ্তি খুঁজছে, যখন আবারো ম্যানচেস্টার থেকে সরাসরি বিমানে উড়ে তারা নামবেন প্রিয় জন্মভূমি সিলেটে।


সিলেটের উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নিয়মিত খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জানান।