Home চট্টগ্রাম রাজনীতির মাঠে চট্টগ্রাম বন্দরের এই ‘শিপিং টাইকুন’ কি অপ্রতিদ্বন্দ্বী?

রাজনীতির মাঠে চট্টগ্রাম বন্দরের এই ‘শিপিং টাইকুন’ কি অপ্রতিদ্বন্দ্বী?

লক্ষ্মীপুরে নিজানের ‘রিটার্ন’

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের নির্বাচনী হাওয়া এখন তুঙ্গে। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন সাবেক এমপি ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের দাখিলকৃত হলফনামা। সাধারণ একজন রাজনীতিক নন, বরং চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম প্রভাবশালী ‘বার্থ অপারেটর ‘ এবং সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তার সম্পদের বিবরণী দেখে রীতিমতো চমকে উঠছেন স্থানীয় ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বন্দরের ব্যবসা থেকে আয়ের পাহাড়

হলফনামার পাতায় পাতায় উঠে এসেছে তার ব্যবসায়িক সাফল্যের চিত্র। নিজান কেবল রাজনীতির মাঠেই সক্রিয় নন, তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের ইনল্যান্ড কার্গো ও বার্থ অপারেটিং ব্যবসার একজন বড় খেলোয়াড়। তার মালিকানাধীন ‘কসমস এন্টারপ্রাইজ’ এবং ‘দি এনজেলিক লাইনস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বছরে তার আয় হয় কয়েক কোটি টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ২ কোটি ৭৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। তবে ব্যাংক ও শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ যোগ করলে এই অংক আরও অনেক বড়।

নগদ টাকা ও সম্পদের ছড়াছড়ি

নিজানের হলফনামায় প্রদর্শিত সম্পদের হিসাব :

নগদ টাকার রাজত্ব: প্রার্থীর নিজের হাতেই নগদ রয়েছে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

ব্যাংক ব্যালেন্স ও এফডিআর: বিভিন্ন ব্যাংকে জমা ও এফডিআর মিলিয়ে তার ও তার প্রতিষ্ঠানের রয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ।

আভিজাত্য: যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন ৮০ লাখ টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ল্যান্ডক্রুজার। এছাড়া চট্টগ্রাম ও ময়নামতি গলফ ক্লাবের সদস্যপদ তার আভিজাত্যের সাক্ষ্য দেয়।

পারিবারিক সম্পদ ও ‘ক্লিন’ ইমেজ

আশরাফ উদ্দিন নিজানের পরিবারের সদস্যরাও পিছিয়ে নেই। তার স্ত্রী ফারহানা আশরাফের নামেও রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ ও গাড়ি। তবে সবচেয়ে বড় চমক তার মামলার তালিকায়। বর্তমান সময়ের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ রাজনীতিতে যেখানে অনেক নেতার নামে শত শত মামলা, সেখানে নিজান প্রায় ‘ক্লিন’। অতীতে ৫টি মামলা থাকলেও বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো মামলা নেই বললেই চলে (একটি মাত্র মানহানির মামলা স্থগিত আছে)।

স্থাবর সম্পদ: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম

ঢাকার বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে রাজউকের প্লট আর চট্টগ্রামে  আলিশান বাড়ি—সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ কোটি ৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। বড় অঙ্কের আয়কর দাতা হিসেবেও তিনি এক অনন্য উদাহরণ।

কেন তিনি আলোচনায়?

স্থানীয়দের মতে, বিশাল অর্থবিত্ত আর ক্লিন ইমেজের সংমিশ্রণে নিজান এবার বেশ শক্তিশালী অবস্থানে। চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা কি এবার রামগতি-কমলনগরের ভোটের রাজনীতিতে বাজিমাত করতে পারবে?

হলফনামার এই তথ্যগুলো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্পদ আর প্রভাবের এই পাহাড় টপকানো কি প্রতিপক্ষের জন্য সহজ হবে? উত্তর মিলবে নির্বাচনের দিন।