২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি থেকে জুন) বৈশ্বিক শিপিং ও সামুদ্রিক বাণিজ্য খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করেছে চীনের জাহাজ নির্মাণ শিল্প। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চীনা শিপইয়ার্ডগুলোতে নতুন জাহাজ নির্মাণের অর্ডার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে চীনা শিপইয়ার্ডগুলো মোট ১২১.০৬ মিলিয়ন ডেডওয়েট টন (DWT) ক্ষমতার নতুন জাহাজ নির্মাণের অর্ডার পেয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭৩.১% বেশি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ছয় মাসের মোট অর্ডার গত পুরো বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মোট ১০৭.৮২ মিলিয়ন ডিডব্লিউটি (DWT) অর্ডারকে ছাড়িয়ে গেছে প্রায় ১২.৩%। বিশ্বব্যাপী মোট নতুন জাহাজ অর্ডারের ৮২.৩% (ডেডওয়েট টন হিসেবে) এখন চীনের দখলে রয়েছে। জুনের শেষ নাগাদ চীনের শিপইয়ার্ডগুলোর মোট জমে থাকা বা হ্যান্ডেলিং অর্ডার দাঁড়িয়েছে ৩৬৩.২৫ মিলিয়ন ডিডব্লিউটি, যা গত বছরের তুলনায় ৫৪.৯% বেশি এবং এটি বিশ্বব্যাপী মোট অর্ডারের প্রায় ৭১.২%। পাশাপাশি, এই সময়ে চীনের শিপবিল্ডিং আউটপুট বা উৎপাদন ৫১.২% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৫০ মিলিয়ন ডিডব্লিউটি, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৬২.২%।
শিপিং শিল্পের প্রধান তিনটি ক্যাটাগরি—ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার, কন্টেইনার জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকার—এই প্রতিটিতেই চীনা ইয়ার্ডগুলো একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে। এই তিন প্রধান খাতের প্রতিটিতেই বৈশ্বিক অর্ডারের ৮০ শতাংশের বেশি বুকিং পেয়েছে চীন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অস্থিরতার কারণে ক্রুড অয়েল ট্যাংকার ও ভিএলসিসি (VLCC)-এর চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ায়, এর সুফল পেয়েছে চীনা শিপইয়ার্ডগুলো। এছাড়া বিশ্বের শীর্ষ কন্টেইনার শিপিং লাইনগুলোর বিশাল বহর সম্প্রসারণের বড় অংশ জুড়েই রয়েছে চীনা ইয়ার্ডভিত্তিক অর্ডার।
কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশগত বিধিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বজুড়ে গ্রিন শিপিংয়ের যে তাগিদ তৈরি হয়েছে, তাতেও চীন নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত তিন বছরের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেও বিশ্বব্যাপী গ্রিন ভেসেল বা পরিবেশবান্ধব জাহাজ অর্ডারের ৬৮ শতাংশের বেশি সিকিউর করেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। অর্ডারের এই ব্যাপক চাপ সামলাতে দেশটির অনেক শিপইয়ার্ড পুনরায় সচল ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনের শিপিং খাতের রপ্তানি মূল্য পৌঁছেছে প্রায় ৩১.৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যার ৯০ শতাংশের বেশি এসেছে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে।