Home Third Lead ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিপ রিসাইক্লিং তালিকায় ব্রাত্য ভারতীয় ইয়ার্ড

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিপ রিসাইক্লিং তালিকায় ব্রাত্য ভারতীয় ইয়ার্ড

‘বিচিং’ পদ্ধতি নিয়ে এনজিও প্ল্যাটফর্মের তীব্র আপত্তি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) অনুমোদিত জাহাজ পুনর্ব্যবহারযোগ্য তালিকার (European List) ১৫তম আপডেট প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। তবে এই তালিকায় ভারতের বেশ কিছু শিপব্রেকিং ইয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আবেদন করলেও, ইউরোপীয় কমিশন সেগুলোকে নতুন তালিকায় যোগ করার কোনো প্রস্তাব দেয়নি। মূলত পরিবেশগত ঝুঁকি এবং ‘বিচিং’ (Beaching) পদ্ধতির কারণে ভারতীয় ইয়ার্ডগুলো এই তালিকায় স্থান পাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
মূল বিতর্কের বিষয়: বিচিং পদ্ধতি এনজিও শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম (NGO Shipbreaking Platform) দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জাহাজ ভাঙার ‘বিচিং’ পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। এই পদ্ধতিতে জাহাজগুলোকে সরাসরি সমুদ্র সৈকতের কাদামাটিতে তুলে ভাঙা হয়, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। জাহাজ থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক, তেল এবং ভারী ধাতু সরাসরি সমুদ্রের পানি ও মাটিতে মিশে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটায়। এই পদ্ধতিটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইউরোপীয় কমিশনের অবস্থান ইউরোপীয় কমিশন মনে করে, জাহাজ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিবেশগত এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি। ভারতীয় ইয়ার্ডগুলো ‘হংকং কনভেনশন’ মেনে চলার দাবি করলেও, ইউরোপীয় মানদণ্ড (EU Ship Recycling Regulation) আরও অনেক বেশি কঠোর। কমিশনের মতে, জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল এবং উন্মুক্ত সমুদ্র সৈকতে জাহাজ ভাঙার প্রক্রিয়া ইইউ-এর পরিবেশগত সুরক্ষার শর্ত পূরণ করে না।
এনজিও শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের কঠোর বার্তা প্ল্যাটফর্মের ডিরেক্টর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন কোনো ইয়ার্ডকে অনুমোদন দেওয়া উচিত নয় যা খোদ ইইউ দেশগুলোর মধ্যে পরিচালনার অনুমতি নেই। তারা একে একটি ‘দ্বিমুখী নীতি’ (Double Standard) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, পরিবেশ রক্ষার জন্য সারা বিশ্বে একই মানদণ্ড কার্যকর হওয়া উচিত।
তালিকায় পরিবর্তন ও তুরস্ক প্রসঙ্গ নতুন আপডেটে তুরস্কের ‘Dörtel’ নামক একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সেখানে পানির ওপর জাহাজ ভাঙা হচ্ছিল এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছিল না। অন্যদিকে, তুরস্কের আরেকটি ইইউ অনুমোদিত ইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যা নিরাপত্তার বিষয়টিকে পুনরায় আলোচনায় এনেছে।
 ভারতের শিপব্রেকিং শিল্প এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য লবিং চালিয়ে গেলেও, পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর শক্ত অবস্থান এবং বিচিং পদ্ধতির ক্ষতিকর দিকের কারণে তা আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই কঠোর অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার শিপব্রেকিং শিল্পকে আরও আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব করার ক্ষেত্রে চাপ হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।