বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে আদালতের সাম্প্রতিক আদেশ বাংলাদেশের ইতিহাসে আর্থিক অপরাধ দমনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত জাবেদের বিদেশের বিপুল সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের এক বিশাল চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে।
সম্পদের ভৌগোলিক বিস্তার ও বৈচিত্র্য
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জাবেদের সম্পদের জাল বিস্তৃত ছিল এশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের ৮টি দেশে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে কম্বোডিয়ায় (১১৭টি বাড়ি)। এ ছাড়া দুবাই (৫৯), মালয়েশিয়া (৪৭) এবং যুক্তরাষ্ট্রে (৪০টি বাড়ি ও ১ কোটি ডলার বিনিয়োগ) তাঁর বড় ধরনের আর্থিক উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। এই ভৌগোলিক বিস্তৃতি ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন দেশে তাঁর অবৈধ সম্পদ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
সিআইডি ও দুদকের সমন্বিত তৎপরতা
এবারের অভিযানে কেবল দুদক নয়, সিআইডির সক্রিয়তাও লক্ষ্যণীয়। আদালতের আদেশে জাবেদসহ ছয়জনের নামে থাকা ৪ কোটি ৬৪ লাখেরও বেশি শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, কেবল স্থাবর সম্পত্তি (বাড়ি-ঘর) নয়, শেয়ার বাজারের মতো অস্থির খাতেও বিশাল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষণ
অর্থ পাচারের গভীরতা: একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে আটটি দেশে কয়েকশ বাড়ি এবং কয়েক মিলিয়ন ডলার পাচার করা দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং ও মনিটরিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতা: আদালত জব্দের আদেশ দিলেও, বিদেশের মাটিতে থাকা এসব সম্পদ প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি’ (MLAT) এর কার্যকর প্রয়োগ প্রয়োজন হবে।
সুশাসনের বার্তা: এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তির সম্পদ জব্দের আদেশ সমাজে একটি বার্তা দেয় যে, জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে কেউ নন। তবে এই আইনি প্রক্রিয়া যেন শেষ পর্যন্ত সম্পদ পুনরুদ্ধারে সফল হয়, সেটিই এখন বড় দেখার বিষয়।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের এই বিশাল সম্পদের খতিয়ান কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতি নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার আশ্রয়ে গড়ে ওঠা এক আর্থিক সিন্ডিকেটের বড় উদাহরণ। আদালতের এই কঠোর অবস্থান পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।