Home Second Lead রামগড়ে রান্নার গ্যাস যেন ‘সোনার হরিণ’: বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

রামগড়ে রান্নার গ্যাস যেন ‘সোনার হরিণ’: বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রামগড়: পার্বত্য জনপদ রামগড়ে তীব্রতর হয়ে উঠেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট। ডিলার পর্যায় থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় রামগড় পৌর শহরসহ আশপাশের বাজারগুলোতে এখন হাহাকার অবস্থা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সিলিন্ডার। রান্নাঘর থেকে শুরু করে গণপরিবহন—সবখানেই এখন গ্যাসের অভাবে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
মাঠচিত্র: চুলার আগুন নেভার উপক্রম
রামগড় বাজার, সোনাইপুল, তৈচালাপাড়া ও কালাডেবা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় কোনো দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার নেই। যারা মজুত রেখেছিলেন, তারা ‘নেই’ অজুহাতে আকাশচুম্বী দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের।
শহরের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা এক গৃহিণী জানান, “গ্যাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি। কিন্তু লোডশেডিং আর মাস শেষে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের দুশ্চিন্তা এখন নতুন আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই সংকট এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।
সংকট কেন? ব্যবসায়ীদের দাবি ও বাস্তবতা
খুচরা ব্যবসায়ীদের আঙুল ডিলারদের দিকে। তাদের দাবি, কোম্পানি থেকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার আসছে না। অন্যদিকে, এলপিজি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন—জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা ও এলপিজি বহনকারী জাহাজ পৌঁছাতে দেরি হওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। চলতি মাসে একটি জাহাজ আসার কথা থাকলেও তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই এই দুর্ভোগ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা: আয় কমছে চালকদের
গ্যাস সংকটের প্রভাব কেবল রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ নেই, আছড়ে পড়েছে সড়কেও। উপজেলার অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এলপিজি ও সিএনজি চালিত যানবাহনগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে।
চালকদের ভোগান্তি: অটোরিকশা চালক মোঃ ফারুক হোসেন জানান, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে ট্রিপ কম দিতে হচ্ছে এবং দিনশেষে আয় নেমে এসেছে অর্ধেকে।
বিকল্পের চাপ: অনেক চালক বাধ্য হয়ে দামী অকটেন ব্যবহার করছেন, যার ফলে যাত্রীভাড়া বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।