কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রম: টানেল শুধু যাতায়াত নয়, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের আনোয়ারায় উন্মোচন করছে অর্থনীতির এক নতুন দিগন্ত। নদীর তীর ঘেঁষে আধুনিক ‘রিভারক্রুজ টার্মিনাল’ এবং ‘রিভারসাইড রিটেইল’ জোন গড়ে তোলার মাধ্যমে এই অঞ্চলকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, একে ‘রিভারসাইড ইকোনমি’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা গেলে চট্টগ্রামের পর্যটন খাতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
উদ্যোগের মূল ভাবনা: রিভারক্রুজ ও রিটেইল হাব
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আনোয়ারার সৈকতের পাশাপাশি নদীর দক্ষিণ পাড়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে আধুনিক রিভারক্রুজ টার্মিনাল। ঢাকা বা চট্টগ্রামের মূল শহর থেকে পর্যটকরা টানেল দিয়ে কয়েক মিনিটে আনোয়ারায় পৌঁছে নদী ভ্রমণের আনন্দ নিতে পারবেন। নদীর তীরবর্তী আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকায় গড়ে উঠবে সি-ফুড রেস্টুরেন্ট, যেখানে মিলবে সামুদ্রিক মাছের টাটকা স্বাদ। এছাড়া স্থানীয় হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পের বড় বড় আউটলেট বা শপিং জোন তৈরির সুযোগ রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
পর্যটন ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়কে সাজানোর এখনই উপযুক্ত সময়। একজন বিশেষজ্ঞের মতে, “বিশ্বের অনেক বড় বড় শহরে নদীর দুই পাড়কে কেন্দ্র করে শক্তিশালী রিটেইল ইকোনমি গড়ে উঠেছে। আনোয়ারায় যদি সুপরিকল্পিত ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট এবং রিভারক্রুজ সিস্টেম চালু করা যায়, তবে এটি কেবল স্থানীয় পর্যটন নয়, বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও নজর কাড়বে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই উদ্যোগ সফল করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল দারুণ কার্যকর হতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা
আনোয়ারার স্থানীয় বাসিন্দারা এই সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। চাতরী এলাকার এক শিক্ষিত যুবক বলেন, “আমরা আগে ভাবতাম টানেল শুধু গাড়ি পারাপারের জন্য। কিন্তু এখন দেখছি এখানে আধুনিক ক্যাফে বা রেস্টুরেন্ট হলে আমাদের কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে। আমাদের এলাকার মানুষ এখন শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক নাগরিক সুবিধার স্বপ্ন দেখছে।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, হস্তশিল্পের দোকানগুলো চালু হলে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পীদের জীবনমান উন্নত হবে।
ব্র্যান্ডিং ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আনোয়ারাকে ‘রিভারসাইড ইকোনমি’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার ফলে এখানকার জমির গুরুত্ব ও বাণিজ্যিক মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। নদীর তীরে বসার নান্দনিক জায়গা, সূর্যাস্ত দেখার ডেক এবং নৌ-ভ্রমণের আধুনিক সুবিধা যুক্ত হলে এটি চট্টগ্রামের বিনোদন জগতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। টানেল পার হয়ে নদীর শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর এই নতুন সংস্কৃতি আনোয়ারার অর্থনীতিকে দেবে স্থায়ী মজবুত ভিত্তি।
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির আরও নানা বিষয় জানতে ভিজিট করুন: businesstoday24.com। ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।